নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর আজ চাকরি গেল। আর তা নিয়ে সরগরম হয়ে যায় রাজ্য–রাজনীতি। এই রায়ের পর চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ কার্যত অনিশ্চিত। আর এই মামলাতেই আগে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি গিয়েছিল রাজ্যের শিক্ষা দফতরের প্রাক♒্তন প্রতিমন্ত্রী পরেশচন্দ্র▨ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর। তখন সেই চাকরি পেয়ে যান ববিতা সরকার। কিন্তু ববিতার চাকরিও গিয়েছিল। তখন চাকরিটি পান অনামিকা রায়। কিন্তু আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২৬ হাজার চাকরিহারাদের মধ্যে অনামিকা রায়ও পড়ে গেলেন। সুতরাং যোগ্য অযোগ্য সকলেই আজ চাকরিহারা।
এদিকে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট অনেক সুযোগ দিয়েছিল যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা পৃথক ক🙈রার জন্য। কিন্তু স্কুল সার্ভিস কমিশন তাও পৃথক করতে পারেনি। রাজ্য সরকারেরও যথেষ্ট গাফিলতি ছিল। অঙ্কিতার নাম কলকাতা হাইকোর্টে ওঠে ২০২২ সালের ১৭ মে। অভিযোগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকা পদে তাঁর নিয়োগ বেআইনি। অঙ্কিতা এবং তাঁর পিতা পরেশ অধিকারীকে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অঙ্কিতার নিয়োগের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলেন ববিতা। মামলায় জিতে অঙ্কিতার চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ববিতার সেই চাকরি চলে যায়।
আরও পড়ুন: ‘নিজের রিলিফ ফান্ডের টাকা থেকে বেতন দিন’, চাকরি বাতিলে মমতাকে খোঁচা শুভেন্দুর
অন্যদিকে ২০১৬ এসএসসির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অযোগ্যদের চাকরি বাতিলের দাবিতে আদালতে সওয়াল করেছিলেন বিকাশবাবু। ওই মামলায় ২০২৪ সালে পুরো প্যানেলটাই বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টও কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। এরপর ববিতার নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যান অনামিকা। ববিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অ্যাকাডেমিক কোয়ালিফিকেশনে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। তা সত্য প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি পান অনামিকা। ২০২৩ সালে কাজে যোগ দেন অনামিকা। কিন্তু অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়েဣর সেই রায়ও থাকল না। কারণ আজ সু্প্রিম কোর্টের রায়ে অনামিকা রায়েরও চাকরি চলে গেল।
এছাড়া এই রায়ের পর শিক্ষকদের পরিবারের অন্ধকার নেমে আসে। সুপ্রিম কোর্টের রায় শোনানোর পরই রাজ্য সরকারকে নিশানা করে পথে নেমেছে বিজেপি যুবমোর্চা। আর সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভও দেখান দলীয় কর্মীরা। আর এই গোটা বিষয়টি নিয়ে অনামিকা রায় বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখছিলাম। আজ সেই চাকরি রইল না। তাই আর খাতা দেখব না। কাল খাতা ফেরত দিয়ে দেব। কারণ না হলে আগামী দিনে আবার আইনি জটে জেরবার🌱 হতে পারি। আমরা যোগ্য ছিলাম। কিন্তু এসএসসি সেই তালিকা আদালতে দিল না। তাই আমরাও চাকরি হারালাম। এখন সবাই এক তালিকায়। সবাই চাকরিহারা।’