মোথাবাড়িতে হিংসার আবহে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ। একটি বাংলা খবরের চ্যানেলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মোথাবাড়িতে নাকি পুলিশ গিয়ে হিন্দু মহিলাদের শাঁখা, পলা পরতে বারণ করছে। সেই প্রতিবেদনের ক্লিপিং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। এরই সঙ্গে জাতীয় মহিলা কমিশনকে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। এহেন পরিস্থিতিতে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য ডঃ অর্চনা মজুমদার জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এবং মহিলা কমিশন এই নিয়ে পদক্ষেপ করতে চলেছে। (আরও পড়ুন: ❀স্বামীর ইচ্ছায় জোর করে স্ত্রীর কুমারীত্ব পরীক্ষা করানো যায়? বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের)
🀅তরুণজ্যোতির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি শেয়ার করে ডঃ অর্চনা মজুমদার লেখেন, 'জাতীয় মহিলা কমিশন মালদার মোথাবাড়ি থেকে একাধিক অভিযোগ পেয়েছে। সেই সব অভিযোগ নিয়ে সক্রিয় ভাবে পদক্ষেপ করার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। একটি দল ৪ এপ্রিল (সম্ভাব্য তারিখ) ঘটনাস্থলে যাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। ন্যায়বিচার আমাজের অগ্রাধিকার।'
❀এর আগে মোথাবাড়ি হিংসার ঘটনায় পুলিশি নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপির আইনজীবী নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। এই হিংসর ঘটনা ধৃতদের একটি তালিকা প্রকাশ করে তরুণজ্যোতি অভিযোগ করেছিলেন, এই ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানে অপর সম্প্রদায়ের একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, 'মালদহের মোথাবাড়ি ঘটনা: পুলিশের নিরপেক্ষতা কোথায়? মালদার মোথাবাড়িতে সাম্প্রতিক ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করেছে যে পশ্চিমবঙ্গের বিচার ব্যবস্থা একতরফা হয়ে গিয়েছে। পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করছে, আমি সেই তালিকায় তথাকথিত 'দুধ দেওয়া গুরুদের' দেখতে ব্যর্থ। মনে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিশেষ জাতের গরুর দুধ পান করেন, কিন্তু সাধারণ হিন্দুরা কেন তাদের আগ্রাসনের শিকার হবেন?'
🐻তরুণজ্যোতি এরপর আরও লিখেছিলেন, 'অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একটি তালিকা, অ্যাডভোকেট রিঙ্কি চ্যাটার্জির প্রোফাইল থেকে আমি পেয়েছি। সেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে হিন্দু সম্প্রদায় পক্ষপাতদুষ্ট নীতির শিকার হয়েছে। যারা ফেসবুক লাইভে প্রকাশ্যে দোকান ভাংচুর করেছে এবং হিংসাত্মক হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কারণ তারা ক্ষমতাসীন দলের বিশেষ ভোট ব্যাঙ্কের অন্তর্ভুক্ত। এই ঘটনাটি আরও একবার হাইলাইট করে যে পশ্চিমবঙ্গের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি অগ্রাধিকারমূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। এমনকী যখন হিন্দুদের ওপর হামলা হয়, তখন অপরাধীদের বদলে গ্রেফতার করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদেরই। প্রশাসন কি তাহলে হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখে? এই বৈষম্যমূলক অবস্থান কি গণতান্ত্রিক এবং ন্যায়সঙ্গত? আর এটাই কি পশ্চিমবঙ্গের নতুন বাস্তবতা?'
😼এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মোথাবাড়ির হিংসার ঘটনায় ১৯টি মামলা রুজু হয়েছে। ৬১ জন গ্রেফতার হয়েছে। সেই এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৭ মার্চ মোথাবাড়িতে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল বিজেপি। অভিযোগ করা হয়, মোথাবাড়ি অঞ্চলের চৌরঙ্গী মোড়ে হিন্দুদের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। লুঠপাট চালানো হয়েছিল।