নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর আজ চাকরি গেল। আর তা নিয়ে সরগরম হয়ে যায় রাজ্য–রাজনীতি। এই রায়ের পর চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ কার্যত অনিশ্চিত। আর এই আবহে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেই শুধু ৫৮১ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হতে চলেছে। এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর জেলার নানা স্কুলে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যেখানে মাত্র একজন শিক্ষক আছেন। আবার বহু স্কুলেই শিক্ষাকর্মীর অপ্রতুলতা রয়েছে। এই রায়ে এবার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় বড় ♛সমস্যা হবে।
এদিকে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট অনেক সুযোগ দিয়েছিল যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা পৃথক করা⛎র জন্য। কিন্তু স্কুল সার্ভিস কমিশন তাও পৃথক করতে পারেনি। রাজ্য সরকারেরও যথেষ্ট গাফিলতি ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভয় দিয়েছেন সকলকে। ৭ এপ্রিল তিনি চাকরিহারাদের সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হল, তাতে বালুরঘাট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, তাঁদের এই স্কুলেও এই রায়ের ভাল প্রভাব পড়বে। কারণ এখানে চারজন শিক্ষক এবং দুজন অফিসকর্মী এবার চাকরি হারাবেন। যার ফলে স্কুলের দৈনন্দিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত নতুন নিয়োগের ব্যবস্থা না করা গেলে স্কুল পরিচালনায় ব্যাপক সমস্যা হবে।
আরও পড়ুন: অঙ্কিতা–ববিতাকে ‘পরাজিত’ করে চাকরি পান অনামিকা, আজ সুপ্রিম রায়ে চাকরিহারা
অন্যদিকে ২০১৬ এসএসসির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অযোগ্যদের চাকরি বাতিলের দাবিতে আদালতে সওয়াল করেছিলেন বিকাশবাবু। ওই মামলায় ২০২৪ সালে পুরো প্যানেলটাই বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টও কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। এরপর স্কুল সূত্রে খবর, এই রায়ের ফলে জেলার অনেক স্কুলে শিক্ষক এবং কর্মচারীর সংখ্যা একেবারেই কমে যাবে। তার জেরে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হবে। আর প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রস্তুতি সব ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই আশঙ্কা আজ নবান্ন থে🎀কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও করেছেন। এখন 🔴সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
এছাড়া এই রায়ের পর শিক্ষকদের পরিবারের অন্ধকার নেমে আসে। সুপ্রিম কোর্টের রায় শোনানোর পরই রাজ্য সরকারকে নিশানা করে পথে নেমেছে বিজেপি যুবমোর্চা। আর সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভও দেখান দলীয় কর্মীরা। এই জেলায় যে কটি স্কুল আছে সেগুলি থেকে চাকরিহারা শিক্ষক সংখ্যা এবং শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা মিলিয়ে ৫৮১ জন হচ্ছে বলে জেলা শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর। আর এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা দফতর কী ব্যবস্থা নেবে সেটা নিয়ে এখন জোরদার আলোচনা চলছে। দ্রুত নতুন নিয়োগ না হলে প্রভাব পড়তে পারে। অভ⭕িভাবকরাও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বে😼গ রয়েছেন।