🦩 মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ড্রেসিংরুমে ভারতের দুই বর্তমান টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক রয়েছেন- রোহিত শর্মা ওডিআই এবং টেস্ট ক্যাপ্টেন। আর সূর্যকুমার যাদব টি-টোয়েন্টি ক্যাপ্টেন। অথচ এই দুই তারকা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে খেলছেন হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে। হার্দিক ভারতীয় দলের কোনও ফর্ম্যাটেরই সহ-অধিনায়কও নন। যাইহোক এটি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কর্ণধার এবং ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। কতটা ঠিক, কতটা ভুল- তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলবেই।
অধিনায়ক হার্দিককে নিয়ে প্রশ্ন
𒉰তবে অধিনায়ক হিসেবে হার্দিকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বারংবার প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সাজানো, দলের খারাপ সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অপারগতা- এই সব নিয়ে জোর চর্চা চলছে। শুক্রবার তিলক বর্মাকে রিটায়ার্ড আউট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও হচ্ছে তীব্র জলঘোলা।
প্রাক্তনদের বিরোধীতা
𓃲প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, মহম্মদ কাইফরা এই ঘটনা মেনেই নিতে পারছেন না। তিলক বর্মাকে রিটায়ার্ড আউট করে মিচেল স্যান্টনারকে নামানোর পিছনে কী যুক্তি ছিল, সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। স্যান্টনার কিন্তু ছক্কা মারার জন্য বিশেষ পরিচিতও নন। তার পরে কেন তাঁকে নামানো হল, কোনও হিসেবই মেলাতে পারছেন না কেউ।
প্রতিবাদ সূর্যের
✨শুধু প্রাক্তনরাই নন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সিনিয়র তারকা সূর্যকুমার যাদবও এই বিষয়টি মোটেও ভালো ভাবে নেননি। তিলক বর্মাকে রিটায়ার্ড আউট করার এমআই-এর যে সিদ্ধান্ত ছিল, তাতে মোটেও খুশি হননি সূর্যকুমার যাদব। স্যান্টনার যখন ব্যাট করতে নামছিলেন এবং তিলক ফিরে আসছিলেন, সেই সময়ে ডাগআউটে বসে থাকা সূর্য বিষয়টি হজম করতে পারেননি। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে তিনি ছোটখাটো বিক্ষোভ দেখান। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন। সেই সময়ে মুম্বইয়ের হেড কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে এই সিদ্ধান্তের পিছনে যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে সূর্যের কাছে যান। এর পরে সূর্য কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখালেও, তিনি যে আশ্বস্ত হননি, সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছিল।
জোর করে তিলককে রিটায়ার্ড আউট করানো হয়
💯মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে জিততে হলে শেষ ২ ওভারে করতে হত ২৯ রান। টি২০-তে এই রান তোলাটা অসম্ভব ছিল না। তবে ১৯তম ওভারে ঘটে গেল একটি বড় ঘটনা। এই ওভারে শার্দুল ঠাকুর বল করতে এসেছিলেন। প্রথম তিন বলে তিনি মাত্র ৩ রান দেন। এর পর হার্দিক পান্ডিয়া ব্যাট বদলান। চতুর্থ বলে এক রান নেন তিলক বর্মা। আর পঞ্চম বলে হার্দিক নেন ১ রান। এর পর তিলককে জোর করে রিটায়ার্ড আউট করান মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। কারণ তিলক নাকি মারতে পারছিলেন না। এটা সত্যি, তিলও চেনা ছন্দে ছিলেন না। ২৩ বলে ২৫ রান করেছিলেন। মাত্র ২টি চার মেরেছিলেন। তবে এভাবে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হওয়ায় তিলক কিছুটা বিরক্তই হয়েছিলেন। যাইহোক তাঁর বদলে নামেন মিচেল স্যান্টনার। স্যান্টনার নেমে ১৯তম ওভারের ষষ্ঠ বলে দুই রান নেন। মোট ৭ রান হয় এই ওভার থেকে।
🦂শেষ ৬ বলে মুম্বইয়ের দরকার ছিল ২২ রান। আবেশ খান বল করতে এলে হার্দিক প্রথম বলে ছক্কা মারেন। কিন্তু পরের পাঁচ বলে নেন ২-০-০-১-০। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শেষ পর্যন্ত লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে ম্যাচটি ১২ রানে হেরে যায়। এখন প্রশ্ন হল, তিলককে রিটায়ার্ড আউট করিয়ে কী লাভ হল? হার্দিকও তো মারতে পারলেন না, স্যান্টনারকেও স্ট্রাইক ছাড়লেন না। তিলককে ওভাবে রিটায়ার্ড আউট করিয়ে আখেরে কী লাভ হল? এই নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক।