𒁃 মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে জিততে হলে শেষ ২ ওভারে করতে হত ২৯ রান। টি২০-তে এই রান তোলাটা অসম্ভব ছিল না। তবে ১৮তম ওভারে ঘটে গেল একটি বড় ঘটনা। এই ওভারে শার্দুল ঠাকুর বল করতে এসেছিলেন। প্রথম তিন বলে তিনি মাত্র ৩ রান দেন। এর পর হার্দিক ব্যাট বদলান। চতুর্থ বলে এক রান নেন তিলক। আর পঞ্চম বলে হার্দিক নেন ১ রান। এর পর তিলককে জোর করে রিটায়ার্ট আউট করান মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। তিলক কিছুটা বিরক্ত হয়েই প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা লাগান। তাঁর বদলে নামেন মিচেল স্যান্টনার। স্যান্টনার নেমে ষষ্ঠ বলে দুই রান নেন। ৭ রান হয় এই ওভার থেকে।
ꦯশেষ ৬ বলে মুম্বইয়ের দরকার ছিল ২২ রান। আবেশ খান বল করতে এলে হার্দিক প্রথম বলে ছক্কা মারেন। কিন্তু পরের পাঁচ বলে নেন ২-০-০-১-০। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শেষ পর্যন্ত লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে ম্যাচটি ১২ রানে হেরে যায়। এখন প্রশ্ন হল, তিলককে রিটায়ার্ট আউট করিয়ে কী লাভ হল? হার্দিকও তো মারতে পারলেন না, দলকে জয়ের কাছেও নিয়ে যেতে পারলেন না, তাহলে তো তাঁরও রিটায়ার্ট আউট হওয়া উচিত ছিল? এই নিয়ে বিতর্ক থাকবেই।
টস জিতলেন হার্দিক
🃏শুক্রবার (৪ এপ্রিল) আইপিএলের ১৬তম ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেন। এদিন রোহিত শর্মার চোট থাকায়, খেলতে পারেননি তিনি। একাদশ থেকে বাদ পড়েন। এদিকে মুম্বইয়ের হয়ে অভিষেক হয় রাজ বাওয়ার। এদিকে লখনউ সুপার জায়ান্টসের এম সিদ্ধার্থের বদলে একাদশে জায়গা পান আকাশ দীপ।
নিজেদের পায়ে কুড়ুল মারল মুম্বই, জীবনদান পেয়ে ঝড় তুললেন মার্শ
ไটস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা লখনউয়ের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল স্কোরবোর্ডে বড় রান তোলা। যে কারণে শুরু থেকেই তারা আগ্রাসী মেজাজে ছিল। প্রথমে ঝড় চুলেছিলেন মিচেল মার্শ। এর পর তাঁর দেখানো পথে হাঁটেন আর এক ওপেনার এডেন মার্করামও। তবে মুম্বইয়ের ট্রেন্ট বোল্ট কিন্তু প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই মিচেল মার্শকে আউট করে ফেলেছিলেন। বোল্টের বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়েছিল। কিন্তু সেটা বুঝতেই পারেননি দলের কোনও প্লেয়ারই। তাই আবেদনও করেননি। পরে দ্বিতীয় ওভারের সময়ে স্টেডিয়ামে লাগানো বড় স্ক্রিনে যখন এই ঘটনার রিপ্লে দেখানো হয়, তখন আল্ট্রা এজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল যে, বলটি মার্শের ব্যাটের কানায় লেগেছে। কিন্তু ততক্ষণে আর কিছুই করার ছিল না।
🍷এদিকে জীবনদান পেয়ে ঝড় তোলেন মার্শ। তিনি বিস্ফোরক ব্যাটিং শুরু করেন। রেয়াত করেননি মুম্বইয়ের কোনও প্লেয়ারকেই। অশ্বিনী কুমারের একটি ওভার থেকে ২৩ রান করেন। মাত্র ২৭ বলেই করে ফেলেন হাফ সেঞ্চুরি। পাওয়ার প্লেতে কোনও উইকেট না হারিয়ে দলকে ৬৯ রানে নিয়ে যান। মার্শের বিরুদ্ধে পেসাররা সাফল্য না পাওয়ায়, হার্দিক আনেন স্পিনার বিগনেশ পুতুরকে। নিজের প্রথম ওভারেই পুতুর তুলে নেন মার্শকে। ৩১ বলে ৬০ রান আউট হন মিচেল মার্শ। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ২টি ছয়। তবে নিজে আউট হওয়ার আগে লখনউয়ের ইনিংসকে শক্ত ভিতের উপরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তখন দলের স্কোর ছিল ৬.৬ ওভারে ৭৬।
হাফসেঞ্চুরি করেন মার্করামও
🥀মার্শ যখন ঝড় তুলেছিলেন, তখন এডেন মার্করামের ভূমিকা ছিল দর্শকের। তিনি একটা দিক ধরে রেখেছিলেন। অজি তারকা ফেরার পর আক্রমণের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন মার্করাম। লখনউয়ের হয়ে আগের তিনটি ম্যাচ রান করতে পারেননি তিনি। শুক্রবার দেখা গেল পুরনো মার্করামকে। চারটি ছয় এবং দু'টি চারে হাত ধরে ৩৮ বলে ৫৩ করেন তিনি। এতে বড় অক্সিজেন পায় লখনউ।
ফের ব্যর্থ পন্ত, তবে ২০০ রানের গণ্ডি টপকায় লখনউ
🌟এদিন ফের ব্যর্থ হন ঋষভ পন্ত। নিকোলাস পুরান ৬ বলে ১২ করে সাজঘরে ফিরলে, চারে ব্যাট করতে নামেন পন্ত। কিন্তু তিনি ফের ব্যর্থ হন। এদিন ৬ বল খেলে মাত্র ২ করে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। চার ম্যাচ মিলিয়ে তাঁর মোট সংগ্রহ ১৯ রান। ২৭ কোটির পন্ত এখনও চার ম্যাচ মিলিয়ে মোট ২৭ রানও করতে পারেননি। চার ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচেই এক অঙ্কের ঘরে গড়াগড়ি খেয়েছেন এলএসজি অধিনায়ক।
🐎ওপেনারদের তৈরি করা মঞ্চে আরও আগ্রাসী হওয়া উচিত ছিল লখনউয়ের বাকি ব্যাটারদের। কিন্তু সেরকম কোনও ঝোড়ো ইনিংস পাওয়া যায়নি। কিছুটা লড়াই করেছিলেন আয়ুষ বাদোনি। তবে তিনি চারটি চারের হাত ধরে ১৯ বলে ৩০ করে আউট হয়ে যান। ডেভিড মিলার ১৪ বলে ২৭ করে সাজঘরে ফেরেন। এর বাইরে বাকিরা এক অঙ্কের ঘরেই আটকেছিলেন। নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান করে লখনউ সুপার জায়ান্টস।
আরও পড়ুন: 🐻ইতিমধ্যে ১৫-২০ জন তোমার বিপক্ষে… MI-এর নতুন হিরো অশ্বিনীকে সাবধান করলেন হার্দিক পান্ডিয়া- ভিডিয়ো
🦩মুম্বইয়ের বোলারদের মধ্যে হার্দিক এদিন ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন। তার মধ্যে শেষ ওভারে তিনি দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূরণ করেন। ট্রেন্ট বোল্ট, অশ্বিনী কুমার এবং বিগনেশ পুতুর নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
রোহিতের নেই, তবু ব্যর্থ মুম্বইয়ের ওপেনিং জুটি
🦄চোটের কারণে এদিন বাদ পড়েছেন রোহিত শর্মা। তাঁর বদলে রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন উইল জ্যাকস। তবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দুই ওপেনারই নিরাশ করলেন। দ্বিতীয় ওভারে সাত বলে ৫ করে ফিরে যান উইল জ্যাকস। রিকেলটন তৃতীয় ওভারে আউট হন ৫ বলে ১০ রান করে।
চার রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি মিস নমন ধীরের
🧔তিন ব্যাট করতে নেমে হাল ধরেছিলেন নমন ধীর। পাশে পেয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদবকে। তাঁরা তৃতীয় উইকেটে ৩৫ বলে ৬৯ রান করেও ফেলেছিলেন। কিন্তু এই পার্টনারশিপ বেশিদূর এগোয়নি। কারণ ৩টি ছয়, চারটি চারের হাত ধরে নমন ধীর ২৪ বলে ৪৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। মাত্র চার রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি মাঠে ফেলে আসেন তিনি। তাঁকে বোল্ড করেন দিগ্বেশ রাঠি। নমন ধীরকে আউট করার পর ফের নোটবুক সেলিব্রেশন করতে দেখা যায় তাঁকে। শাস্তি পেয়েও শুধরাননি নমন।
হাফসেঞ্চুরি করেন সূর্যকুমার
ꦬনমন আউট হলে তিলক বর্মা নামেন পাঁচে। তিলককে সঙ্গী করে সূর্যকুমার যাদব দ্রুত গতিতে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করায় মন দেন। খুব যে চার, ছয় হাঁকিয়েছেন স্কাই, তা নয়। তবে চেষ্টা করেছেন, প্রতি ওভার এক-আধটা চার হাঁকিয়ে ভারসাম্য বজায় মনে রাখতে। এই জুটির তালমেল বেশ ভালো বলে মনে হচ্ছিল। একটা সময়ে তো মনে হয়েছিল, হয়তো সূর্য-তিলক জুটিই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন। কিন্তু মোক্ষম সময়ে আবেশ খান এসে সূর্যকে ফেরান। ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই স্কাইকে ফেরান আবেশ। আব্দুল সামাদের হাতে ক্যাচ দেন সূর্য। একটি ছয়, ন'টি চারের হাত ধরে সূর্য আউট হন ৪৩ বলে ৬৭ করে। এর পরেই মারাত্মক চাপে পড়ে যায় মুম্বই।
হার্দিক জেতাতে পারলেন না মুম্বইকে
🔥সূর্যকুমার আউট হতে নেমেছিলেন হার্দিক। কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, তবে দলকে জেতানোর মতোও দম ছিল না সেই চেষ্টায়। হার্দিক পান্ডিয়া তিলককে ১৯তম ওভারে রিটায়ার্ট আউট করিয়ে দেন। তিনি মারতে পারছিলেন না অভিযোগে। তিলকও চেনা ছন্দে ছিলেন না। ২৩ বলে ২৫ রান করেছিলেন। মাত্র ২টি চার মেরেছিলেন। তিলকের বদলে মিচেল স্যান্টনার আসেন। মনে করা হয়েছিল, এই জুটি মিলিয়ে ঠিক দলকে জেতাবেন। কিন্তু ২০তম ওভারে হার্দিক একটি ছক্কা মারলেন বটে। বাকি পাঁচ বল আবেশকে খেলতেই পারলেন না হার্দিক। স্যান্টনার অবশ্য এই ওভারে একটি বলই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেটি শেষ বল। তার আগেই অবশ্য মুম্বই ম্যাচ হেরে বসেছিলেন। নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯১ করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ১২ রানে তারা পিছিয়ে পড়ে।