HT Bangla Special On Financial Fraud: বড়দিন বা ক্রিসমাস মানেই কেক ও সান্টার গিফ্ট। উপহার পেতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু বাচ্চাদের মতো সান্টার গিফ্ট পাওয়ার বয়স চলে গিয়েছে। এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে পৌষ মেলা নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখছিলাম। হঠাৎই পরিচিত এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ। আমাজন গিফ্ট বক্সের লিঙ্ক। উপহারের লোভ ক্লিক করলাম। খুলে গেল আমাজনের সাইটের মতো একটা পেজ। তাতে কতগুলি গিফ্টের বাক্স— কিছু ফাঁকা, কিছু ভর্তি। এর মধ্যে সঠিকটা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তিনবার। দ্বিতীয় বারে একটি বাক্স বেছে নিতেই বেরিয়ে এল আইফোন। কিন্তু এত সহজে পাওয়ার জো নেই। প্রথমে সাꩵইটের লিঙ্ক কতগুলো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ও কন্ট্যাক্টে শেয়ার করতে হবে। একই সঙ্গে সাইটের নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের নাম ও ফোন নম্বর দিতে হবে। তাহলেই আইফোনের সেরা মডেলটা একেবারে আমার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
আরও পড়ুন - ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শান্তিনিকেতনের প্🐼রথম পৌষ মেলা, ভিন্ন আবেগের সাক্ষী হল HT বাংলা
যেখান থেকে সন্দেহ
সাইটের URL দেখে প্রথমেই সন্দেহ হয়েছিল। আমাজন শব্দটা পুরো লেখা নেই। ডোমেইনও পরিচিত ডোমেইন নয়। আদৌ আমাজনের সাইট তো? নিজের নাম, ফোন নম্বꦬর দেওয়ার আগে আমাজনের কাস্টমার সার্ভি⭕সে গেলাম। ওপার থেকে একজন লিঙ্ক দেখেই জানিয়ে দিলেন এটি ভুয়ো লিঙ্ক। আমাজনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। এমনকি যোগ নেই আমাজনের সঙ্গে কর্মরত কোনও সংস্থারও!

শু-ধু ক্রিসমাস নয়, দীপাবলি বা দিওয়ালি ও অন্যান্য বড় উৎসবের আগে এই ধরনের লিঙ্ক হোয়াটসঅ্যাপে ঘোরাফেরা করে। গিফ্ট যদি না দেবে, লিঙ্কগুলির আসল উদ্দেশ্য় কী তবে? ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে কোন কাজে লাগানো হয়? এই প্রসঙ্গেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা বিস্তারিত কথা বলল সাইবার বিশেষজ্ঞ মণিদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে।

ফিশিং বা হোয়েলিং
মণিদীপবাবুর কথায়, ‘সাইবার অপরাধের পরিভাষায় একে আগে ফিশিং বলা হত। বর্তমানে হোয়েলিং বলা হয়। কারণ একসঙ্গে বহু মানুষের তথ্য় সংগ্রহ করে একটি বিশেষ চক্র। পরে এগুলি বিভিন্ন জালিয়াতি বা অপরাধমূলಞক কাজে লাগানো হয়। যদিও এই পদ্ধতি অনেক পুরনো ধাঁচের। এখন প্রতারণার কায়দা পাল্টে গিয়েছে। ধরা যাক, আপনি বিমানের টিকিট কেটেছেন। সেই তথ্য এয়ারলাইন্স বা থার্ড পার্টির থেকে প্রতারণা চক্র প্রথমে বার করে নেয়। এবার ওই যাত্রীকে ফোনে অফার দেওয়ার নাম করে ব্যাঙ্কের তথ্য হাতিয়ে নেয় সাইবার অপরাধীরা। ফোনকলে থাকতে থাকতেই যাত্রীর ব্যাঙ্ক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেয় চক্রটি।’
আরও পড়ুন - পু𓂃লিশি নিরাপত্তায় শুরু শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা, কী কী ব🤡্যবস্থা থাকছে এবার?
সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগের জের
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অভিযোগমূলক পোস্টকেও আজকাল প্রতারকরা টার্গেট করে বলে জানালেন মণিদীপবাবু। তাঁর কথায়, ‘ইদানীং কোনও অ্যাপ বা সংস্থার পরিষেবা ভালো না লাগলে অনেকে সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেন। প্রতারকরা এই ধরনের পোস্টকে প্রায়ই টার্গেট করে। হয়তো আপনি পোস্ট করলেন। প্রতারকদের তরফে একজন আপনাকে ফোন করে জানাল তারা টাকা ফিরিয়ে দিতে চায়। পোস্টটি যাতে ডিলিট করে দেওয়া হয়। এবার আপনি রাজি হলেই আপনার ব্যাঙ্কের তথ্য চাইবে, টাকা পাঠানোর জন্য। অথবা অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন প্রসেস হিসেবে বলবে ১০ টাকা একটা অ্যাকাউন্টে পাঠাতে। এদের কথা অনুযায়ী কাজ করলেই ফাঁদে পড়বেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার অ্যাকাউ🥂ন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা ডেবিটেড হতে থাকবে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অ্যাকাউন্ট ফাঁকা।’
আরও পড়ুন - কেন ৭ পৌষেই ᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚ𒀱ᩚᩚᩚশুরু হয় শান্তিনিকেতܫনের পৌষমেলা ? নেপথ্যে দেবেন্দ্রনাথের এই কাহিনি
ডিজিটাল অ্যারেস্ট
বর্তমানে কাউকে ফোন করলে রিংয়ের বদলে শোনা যায় একটি বিশেষ কন্ঠস্বর। যেখানে বলা হচ্ছে, ‘সিবিআই, পুলিশ কখনও কাউকে ফোন করেন না। এই ধরনের ফোন প্রতারকদের হতে পারে…।’ এই প্রসঙ্গেও সাবধানবাণী শোনালেন সাইবার বিশেষজ্ঞ। মণিদীপের কথায়, ‘বর্তমানে তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন ডিজিটাল অ্যারেস্টের। এক্ষেত্রে প্রতারকরা কিছুটা হোম ওয়ার্ক করে আসে। যাদের ছেলেমেয়ে বা নিকট আত্মীয় বিদেশে থাকেন, তাঁরা এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পড়েন। হয়তো ফোন করে প্রতারকরা বলছে, আপনার আত্মীয় একজনকে গাড়ি চাপা দিয়েছে বা কোনও গুরুতর অপরাধ করেছে। এর জেরে ১০ বছরের জেল হতে পারে। এসব শুনে ওই মানুষটি নার্ভাস হয়ে পড়ছেন। তখন পাশ থেকে আরেকজন প্রতারক মধ্যস্থতা করার ছলে টাকা চাইছেন। টাকা দিলেই নাকি সব মিটমাট করে দেবেন। সেই টাকা কখনও ৪ লাখ তো কখন ৫ লা🐻খ! পেমেন্ট করার অনেক পর ব্যক্তিটি জানতে পারছেন তাঁর সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে।’
ডিপ ফেকের ছড়াছড়ি
এত সহজে বিশ্বাস করে নিচ্ছেন সকলে? মণিদীপের কথায়, ‘এক্ষেত্রে এআই অনেকটা সাহায্য় করছে। হয়তো ওই ব্যক্তির ছবি বসিয়ে একটি ডিপ ফেক ভিডিয়োও বানিয়ে দেখানো হচ্ছে। যার ফলে বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন একজন। এছাড়াও, আরেকটি ব্যাপার হল নিজের পরিবারের এসব কেলেঙ্কারি কেউ প্রকাশ্যে আনতে চান না। তাই গোপন করে যান। যতক্ষণে একজন বুঝতে পারেন, তার সঙ্গে প্✃রতারণা হয়েছে, ততক্ষণে অনেকটা𓆏ই দেরি হয়ে যায়।’
প্রতারকদের নয়া ফাঁদ ক্রিপ্টোকারেন্সি!
প্রতারকদের আরেক নয়া ফাঁদ সম্পর্কে জানালেন মণিদীপ। সাইবার বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সিও এখন প্রতারকদের নয়া ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াজ়িরেক্স (WazirX) যেমন ভারতের একটি পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি। কিছুদিন আগে অনেকে হাই রিটার্নের আশায় এখানে টাকা লগ্নি করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু খোঁজ নিলে দেখবেন, বেশিরভাগ মানুষই টাকা খুইয়েছেন। লগ্নি করা টাকা রাতারাতি পুরো গায়েব। এর বড় কারণ ক্রিপ্টোর বাজারের উপর আরবিআই ও সেবির কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। আবার এই বাজার বেআইনিও নয়। ফলে একটা কয়েনের ভ্যালু যেমন ইচ্ছে ওঠানাম🎐া করে। হঠাৎ তরতরিয়ে দাম উঠতে শুরু করলে সাধারণ মানুষ মনে করে প্রচুর রিটার্ন দিচ্ছে। সেই দেখে তাঁরা টাকা রাখছেন। এবার যারা বেশি অঙ্ক বিনিয়োগ করে ভ্যালু তুলেছিল, তারা রাতারাতি বিনিয়োগ করা টাকা তুলে নিচ্ছে। হয়তো রাত দুটো তিনটে নাগাদ। ভোরে উঠে সাধারণ মানুষ দেখছে, তাদের লগ্নি করা টাকা পুরোপুরি গায়েব!’

সাধারণ মানুষও দায়ী কিছুটা…
সেবির নিয়ন্ত্রণ নেই জেনেও বিনিয়োগ করছেন। এই ব্যাপারে কি সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও দায়ী নন? মণিদীপবাবুর কথায়, ‘অবশ্যই কিছুটা দায়ী। কারণ সেবিরনিয়ন্ত্রণ নেই জেনেই তারা 🥂বিনিয়োগ করছেন। ফলে হর্ষদ মেহতার মতো কিছু ব্যক্তির প্রতারণার শিকার হচܫ্ছেন। ক্রিপ্টো বিনিয়োগের আগে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে এই বিষয়ে।’
প্রশাসন ও সংস্থার কেউ কেউ জড়িত
সম্প্রতি খবরে প্রকাশিত, বনগাঁর এক ব্যক্তি পাসপোর্ট করাতে গিয়ে জ🙈ানতে পেরেছেন, 👍তাঁর নাম-পরিচয়ে আগেই পাসপোর্ট রয়েছে। আর যিনি পাসপোর্ট করিয়েছন, তিনি বর্তমানে বিদেশে। অর্থাৎ আসল ব্যক্তির আধার, ভোটার কার্ড হাতিয়ে কোনও প্রতারক জাল পাসপোর্ট বানিয়েছেন। তারপর সোজা চলে গিয়েছেন বিদেশে। এদিকে আসল ব্যক্তি কিছুই জানেন না। হয়তো কোনও গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র বা ব্যাঙ্ক বা মোবাইল সিমের দোকান থেকে কাগজপত্র হাতানো হয়েছে। মণিদীপের কথায়, ‘এখন বড় প্রশ্ন., এই পাসপোর্ট ভেরিফায়েড হল কীভাবে? যাচাই প্রক্রিয়াতে পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশ থাকেন। প্রতারকের মুখের সঙ্গে আধার কার্ডের আসল মালিকের মুখের মিল থাকার সম্ভাবনা খুব কম। তারপরেও সব ভেরিফায়েড হয়ে যাচ্ছে। কোথাও আটকায়নি। এর অর্থ প্রশাসনের একাংশও নানাভাবে প্রতারণায় জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’
সংস্থারই কেউ তলে তলে…
আরেকটি উদাহরণ এই প্রসঙ্গে দিলেন মণিদীপ। জানালেন, ‘জমি, বাড়ি কিনতে গেলে দলিলে দশ আঙুলের ছাপ দিতে হয়। এছাড়াও, অনেক ক্ষেত্রে এমন আঙুলের ছাপ প্রয়োজন হয়। আধার ღএনাবেলড পেমেন্ট সিস্টেম শুরু হওয়ার পর ওই আঙুলের ছাপ নকল করে প্রতারকরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণা হচ্ছে। আবার কিছুদিন আগে বিভিন্ন কুরিয়ার সংস্থার নাম করে প্রতারণা হচ্ছিল। অনেকে ভুয়ো ফোন পাচ্ছিলেন কাস্টমস বা শুল্ক দফতর থেকে।বলা হচ্ছিল, ওই ব্যক্তির একটি পার্সেলে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য পাওয়া গিয়েছে। এই পার্সেলের জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। তবে টাকা পাঠালে তিনি মুক্তি পেতে পারেন। অনেকে ভয় পেয়ে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। পরে বুঝতে পারছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। এখানেও প্রশ্ন প্রতারক কীভাবে জানতে পারছে, ব্যক্তিটির একট⭕ি পার্সেল আসার কথা? এই তথ্য শুধুমাত্র সংস্থার কর্মীদের কাছে থাকার কথা। তার অর্থ ভিতর থেকে কেউ না কেউ এই ধরনের তথ্য ফাঁস করছে।’
প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচতে…
মণিদীপবাবুর কথায়, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট হোক বা সন্দেহজনক ফোন, ভুয়ো লিঙ্ক হোক বা ক্রিপ্টোর মতো অনলাইন বিনিয়োগ, কিছু জিনিস মাথায় রাখলে সাইবার প্রতারকদের হাত থেকে বা🍰ঁচা সম্ভবꦜ।’
- অনলাইন লেনদেনের ব্যাপারে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। কোনওরকম ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য অচেনা অজানা ব্যক্তির সঙ্গে আদানপ্রদান করা যাবে না।
- ডিজিটাল অ্যারেস্ট জাতীয় ফোন এলে প্রথমেই নজর রাখুন টাকার কথা বলছে কি না। টাকা দাবি করলে প্রথমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করুন। সত্যতা যাচাই করে তবেই টাকা পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন।
- ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ শেয়ার মার্কেটের থেকেও বেশি ঝুঁকিসাপেক্ষ। তাই এই সংক্রান্ত লগ্নির আগে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অবশ্যই নিন।
- কোনও কারণে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটবর্তী থানায় অভিযোগ জানান। সাইবার ক্রাইম পোর্টাল cybercrime.gov.in-এও অভিযোগ জানাতে পারেন। পাশাপাশি ব্যাঙ্কের শাখাতেও অভিযোগ জানিয়ে রাখুন।