Mental Health: বড় অঙ্কের মাইনে, ঘরবাড়ি, পরিবারও সবসময় সুখী জীবনের চাবিকঠি হতে পারে না। সম্প্রতি এক আইটি কর্মীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু যেন সেই কথাটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। একই সঙ্গে ফের মাথাচাড়া দিল মানসিক অবসাদের প্রসঙ্গ। অফিস-বাড়ি মিলিয়ে নানা ঘটনার জেরে অনেকেই অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। কিন্তু এই নিয়ে কথা বলার সুযোগ বা সময় পান না। আবার অনেকে বুঝতেই পারেন না, তিনি বেশ কিছু দিন ধরে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে নিজের সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগেই অনেকদূর গড়িয়ে যায় সমস্যা। মানসিক অবসাদ চেনার প্রক্রিয়া ও তার সঙ্গে বোঝাপড়ার বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বললেন মনোবিদ সোহিনী সাহা (সাইকোলজিস্ট, মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল)।
অবসাদে আছি কি না বুঝব কীভাবে?
মানসিক অবসাদ চিনতে প্রথমেই মনমেজাজ কেমন আছে সেদিকে জোর দিতে হবে। সোহিনীর কথায়, “লো মুড বা ‘মন ভালো লাগছে না’ এই পরিস্থিতি কতদিন ধরে চলছে, তা প্রথমেই দেখা দরকার। সময়টা দুই সপ্তাহ বা দুই বছরের বেশি কি না এটা প্রথমেই দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত আসে স্থান। ডিপ্রেশনের এই সমস্যা স্থাননিরপেক্ষ কি না সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথা বললেও মন ভালো লাগছে না। কোথাও ঘুরতে গেলেও মন ভালো নেই। বাড়ি বা অফিস সব ক্ষেত্রেই মনের অবস্থা একরকম। এমনটা যদি হয়, তাহলেও সতর্ক হতে হবে। এর পাশাপাশি আরেকটি দিক হল পারফরম্যান্স।ꦺ দৈনন্দিন জীবনের যে কাজগুলি না করলেই নয়, সেই কাজগুলি একজন ঠিকমতো করতে পারছেন? নাকি বেশিরভাগ সময় কাজ করতে ভালো লাগে না? তেমনটা হলেও কিন্তু সতর্ক হওয়া জরুরি।"
নেগেটিভিটি বাসা বাঁধছে?
🐻নেগেটিভিটি বা নেতিবাচকতাও মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের একটি দিক হতে পারে বলে জানাচ্ছেন সোহিনী। মনোবিদের কথায়, ‘অবসাদের লক্ষণগুলির মধ্যে নেগেটিভিটি অন্যতম। যদি একজন নিজের চারপাশ খুব নেতিবাচক চোখে দেখেন, নিজেকে নিয়ে বা নিজের ভবিষ্যত নিয়েও নেতিবাচকভাবে ভাবেন, তাহলেও অবসাদ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন - 🍃‘রবীন্দ্রনাথের আদর্শ ভালো বুঝি, আশা করি কোনও সমস্যা হবে না!’ HT বাংলায় Exclusive বিশ্বভারতীর নতুন উপাচার্য
কীভাবে সামাল দেব অবসাদ?
🏅মানসিক অবসাদ সামাল দেওয়ার একটি কার্যকরী পন্থা দৈনন্দিন রুটিনে কিছু বদল আনা, কিছুটা সাজিয়ে গুছিয়ে নেওয়া। মনোবিদ সোহিনী এমন বেশ কয়েকটি অভ্যাসের কথা বললেন।
১. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া -🀅 স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া মন ভালো রাখার অন্যতম উপায়। তাই নিয়মিত একটি হেলদি ডায়েট অবশ্যই ফলো করা উচিত। পুষ্টিকর খাবার শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।
২. সঠিক সময়ে ঘুমোনো -🐻 অনেকেরই রাত জাগার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু বেশি রাত জাগলে সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। আমাদের শরীরে কর্টিসল নামের একটি হরমোন রয়েছে যা মূলত দিনের বেলা কাজ করে। ফলে সকাল হলেই হরমোনটি আমাদের ঘুম থেকে জাগাতে তৎপর হয়ে ওঠে। তাই রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লে স্লিপ হাইজিন ঠিক থাকে। বারবার ঘুম ভাঙে না, ঘুমের সমস্যাও কম হয়। পাশাপাশি ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোতে পারলে তা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা -꧟ নিয়মিত শরীরচর্চা হ্যাপি হরমোন যেমন এনডরফিন ক্ষরণে সাহায্য করে। একান্ত শরীরচর্চা না করতে পারলে হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাসও কিন্তু মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৪. সামাজিক মেলামেশা -✅ সামাজিক মেলামেশা মন ভালো রাখার অন্যতম উপায়। কথা শোনা ও কথা বলা যত বেশি হবে, তত মুড রেগুলেশন ভালো থাকে। আমাদের ভিতরে সবসময় অনেক কিছু ঘটে চলেছে। তাই কথা বলার মাধ্যমে ভালো-লাগা খারাপ-লাগা যদি প্রকাশ করতে না পারি, তাহলে সেগুলো কুরে কুরে খাবে। ডিপ্রেশনজাতীয় অসুখের কারণ হবে।
৫. মনোবিদের সাহায্য -𒀰 এগুলি করার পরেও যদি মন ভালো না লাগে, মনখারাপ বারবার ফিরে আসে বা মনটা খারাপ হয়েই থাকে, তাহলে মনোবিদের কাছে কিন্তু যেতে হবে।
কখন মনোবিদের কাছে যাব?
মনোবিদের কাছে কখন যাওয়া উচিত, সেই বিষয়েও অনেকের মনে ধন্দ থাকে। এর উত্তরে সোহিনী জানাচ্ছেন, দুটি বিষয় নজরে রাখার কথা। তাঁর কথায়, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে যদি আপনার মধ্যে কিছু বদল আসে। যেমন অনেকসময় বাড়ির লোক বলে— তুই খুব অলস হয়ে গিয়েছিস, সারাদিন ল্যাদ খাচ্ছিস, কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গিয়েছিস। আগে হয়তো এমনটা ছিল না। কিন্তু এই ধরনের পরিবর্তন যদি ২ বছর ধরে দেখা যায়, তাহলে মনোবিদের কাছে যাওয়া জরুরি। একে আমরা লো গ্রেড ডিপ্রেশন বলি। এখানে গভীর ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলি দেখা যায় না। এখানেই আসছে ডিপ্রেশনের আরেকটি দিক। যদি দুই সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত মুড লো থাকে, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুমের সমস্যা বা প্রচণ্ড বেশি ঘুম হতে থাকে, বেশি খাবার খেতে থাকা বা খাওয়া কমিয়ে দেওয়া, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, কাজ করার ইচ্ছে চলে যাওয়া, মনোযোগের অভাব, নিজেকে নিয়ে অপরাধবোধ মতো লক্ষণগুলি দেখা দিলে মনোবিদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে🐎। এক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ মনে করিয়ে দিলেন মনোবিদ। সোহিনীর কথায়, ‘এই দুই সপ্তাহের টাইম স্প্যানে যদি মৃত্যুচিন্তাও আসে, তবে কখনও দেরি করা উচিত নয়। মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’
পাঠকদের প্রতি: প্রতিবেদনটি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মতামতের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এটি সমস্যাটি সম্পর্কে সাধারণ ধারণার উপর আলোকপাত করা মাত্র। ব্যক্তিবিশেষে প্রতিটি সমস্যার চিকিৎসা এবং নিরাময়ের পদ্ধতি পৃথক। তাই যে কোনও সমস্যায় শুধুমাত্র এই প্রতিবেদনের কথায় ভরসা না রেখে, ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকের বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।