🌸 অশোক ষষ্ঠী কখনও কখনও চৈত্র মাসে পড়ে, কখনও আবার বৈশাখ মাসেও পড়ে। আসলে বাসন্তী পুজোর সময় যে শুক্লপক্ষ আসে, সেই শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে অশোক ষষ্ঠী পালিত হয়। এই ষষ্ঠী মূলত সংসারের মঙ্গল কামনা এবং সন্তান সুখের জন্য করা হয়ে থাকে।
অশোক ষষ্ঠীর পৌরাণিক কাহিনি
🌄অশোক ষষ্ঠীর প্রবর্তন কী ভাবে হয়েছিল সে নিয়ে রয়েছে পৌরাণিক কাহিনি। শোনা যায় এক ঋষির আশ্রমে প্রচুর অশোক গাছ ছিল সেই গাছের তলায় তিনি একটি ছোট্ট সুন্দর কন্যা সন্তানকে ক্রন্দন রত অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি দয়াপরাবশ হয়ে বাচ্চাটিকে আশ্রমে নিয়ে এসেছিলেন। অশোক গাছের তলায় বাচ্চাটিকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন বলে, তার নাম রেখেছিলেন অশোকা।
🐭সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অশোকা বড় হতে লাগলো। মুনি, অশোকার বিবাহ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন কারণ অশোকা অপরূপ রূপবতী হয়ে উঠছিল এবং তাকে আশ্রমে রাখা নিরাপদ নয়, তাই ভেবে তিনি উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান করছিলেন। কিন্তু অশোকার উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান না পেয়ে তিনি ঠিক করেছিলেন, পরের দিন ভোর বেলায় দরজা খুলে প্রথম তিনি যার মুখ দেখবেন তার হাতেই তিনি অশোকাকে সমর্পণ করবেন।
🌸এদিকে এক রাজা ওই বনে মৃগয়া করতে এসে প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই রাত্রি তিনি বনে কাটিয়ে পরদিন সকালবেলায় জলের খোঁজে খুঁজতে খুঁজতে ওই মুনির আশ্রমে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি অশোকাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। অন্যদিকে ঋষিও ভোরবেলায় প্রথম দ্বার খুলে রাজার মুখই দর্শন করেছিলেন। এরপর রাজা ও অশোকার চার হাত এক করতে বেশি সময় লাগে নি।
☂এরপর অশোকা স্বামীর হাত ধরে ঋষির কাছ থেকে অশ্রু সজল নয়নে বিদায় নিয়ে শ্বশুর বাড়ি রওনা দিয়েছিল। মুনি, অশোকা যদি চিনতে না পারে আশ্রমের রাস্তা তাই তার আঁচলে কিছু অশোক ফুলের বীজ বেধে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন রাস্তায় যেতে যেতে এগুলো যেন পথে দুই ধারে সে ছড়িয়ে দেয়। যাতে কোনদিন পথ চিনে এই আশ্রমে আসতে তার অসুবিধা না হয় এবং তাকে অশোক ষষ্ঠী উপবাসের কথা ও এই ব্রতের নিয়মবিধি বলে দিয়েছিলেন।
ಌমুনির কথামতো অশোকা অশোক ফুলের বীজ ছড়াতে ছড়াতে রাজবাড়ী গেছিল। শ্বশুর বাড়িতে এসে সুখেই সংসার করছিল অশোকা। ক্রমে অশোকার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে হল। কিছুকাল পড়ে চৈত্র মাসে এক অশোক ষষ্ঠীর দিন অশোকা তার বৌমাদের বলেছিল যে, সেদিন অশোক ষষ্ঠী তাই সে অন্ন গ্রহণ করবে না। তাই তার বউমারা মুগ কলাই রেঁধে, খেতে দিয়েছিল অশোকাকে। অশোকা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, পরদিন ঘুম থেকে উঠে সকালবেলা সে দেখে তার পরিবারের সকলে মরে পড়ে আছে। কিছু বুঝতে না পেরে সে কাঁদতে কাঁদতে অশোক গাছের সারি বরাবর আবার আশ্রমে এসে উপস্থিত হয়েছিল মুনির কাছে। মুনি ধ্যান বলে পুরো ঘটনার কারণই বুঝতে পেরেছিলেন। তারপর মুনি অশোকাকে বলেছিলেন মুগ কলাই এর মধ্যে একটা চাল সেদ্ধ হয়ে গেছিল। অশোক ষষ্ঠীর ব্রতে অন্ন খাওয়া যায় না। ওই সিদ্ধ চাল খাওয়ার জন্যই এই বিপত্তি হয়েছে। তিনি অশোকাকে মন্ত্রপুত জল দিয়ে বলেছিলেন, এই জল ছিটিয়ে দিলে সকলে আবার বেঁচে উঠবে। অশোকা ফিরে এসে সেই জল পরিবারের সকলের উপর ছিটিয়ে দিয়েছিল এবং সকলে আবার আগের মত সুস্থ হয়ে বেঁচে উঠেছিল। এভাবেই ছড়িয়ে পড়েছিল অশোক ষষ্ঠীর মাহাত্ম্য।
অশোক ষষ্ঠীর তারিখ ও তিথি
﷽শুক্লপক্ষতে পড়ে এই অশোক ষষ্ঠী। এবার এই ষষ্ঠী তিথি ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল, রাত ১১ টা ৫০ মিনিট থেকে ৩ এপ্রিল, রাত ৯ টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত চলবে। তাই অশোক ষষ্ঠী পালিত হবে ৩ এপ্রিল।
অশোক ষষ্ঠীর নিয়ম
꧒অশোক ষষ্ঠীর দিনে কখনও অন্ন গ্রহণ করা উচিত না। মা ষষ্ঠীকে পুজো দিয়ে ৬টা অশোক ফুলের কুঁড়ি, ছটা মুগকলাই, দই একসঙ্গে মুখে দিয়ে জল দিয়ে গিলে খেতে হবে। এই খাবার টি গিলে খেতে হয়, দাঁতে যেন না লাগে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত।