জয়ব্রত গোস্বামী সন্দীপ দে ও প্রিয়দর্শী মজুমদার
ඣপাবলিশিং হাউস বা প্রকাশনী সংস্থা সংক্রান্ত ব্যবসা একটি বেশ বড় মাপের উদ্যোগের মধ্যে পড়ে। যে কোনও পাবলিশিং হাউসের ব্যবসায় ডিটিপি অপারেটরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে| ওই হাউসটি কী ধরনের পুস্তক প্রকাশ করে, পাঠ্যপুস্তক নাকি অন্যান্য পুস্তক (গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ বা কবিতার বই, ভ্রমণ কাহিনী ইত্যাদি), সেই অনুযায়ী ওই সংস্থা ডিটিপির কাজগুলি করিয়ে নেয়। কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা দুই ধরনের পুস্তক নিয়েই ব্যবসা করে থাকে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে ব্যবসায়িক মূলধন, যোগ্য লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সঠিক মার্কেটিং স্ট্রাটেজির উপর)।
ꩵকোনও প্রকাশনা সংস্থা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক পরবর্তী ধাপের কাজটিই হল বইটিকে সঠিকভাবে কম্পোজ করা। সংস্থাগুলি এই ক্ষেত্রে ডিটিপি অপারেটরকে দিয়ে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির পুরোটাই সফট কপি করায়। বইটি যদি বিজ্ঞানভিত্তিক হয় এবং গাণিতিক ফর্মুলা থাকে, সেক্ষেত্রে বিজ্ঞানের সঙ্গে একদমই যোগাযোগ না থাকা ডিটিপি অপারেটরের পক্ষে এই ধরনের বই নির্ভুলভাবে টাইপ করা খুবই সমস্যাজনক। এই দিকে সচেতনতা জরুরি কারণ নির্ভুল বই টাইপ করতে যদি অনেক সময় লেগে যায় অথবা ছাপা বইতে অসংখ্য ভুল থেকে গেলে শুরুতেই সেই পাবলিকেশনের বদনাম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
🥀তাই যেসব পাবলিশিং হাউস বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করে, সেখানে সবসময়ই সায়েন্টিফিক ডিটিপি অপারেটরের চাহিদা থাকে। সেই তুলনায় এই ধরনের দক্ষ কর্মীর সংখ্যা কম। বড়-বড় প্রকাশনা সংস্থায় ডিটিপির কাজের জন্য স্থায়ী কর্মী থাকলেও বেশিরভাগ সংস্থাই সাধারণত এক্ষেত্রে প্রয়োজনমতো আউটসোর্সিং করিয়ে নেয়। তাই সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের ছেলেমেয়েদের এই ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজের জায়গা সবসময়ই আছে। আমাদের এই লেখাটি মূলত ডেস্ক টপ পাবলিশিং নিয়ে। তাই এবার এটি নিয়েই একটু বিশদে আলোচনা করা যাক।
✨পাঠ্যপুস্তক ছাড়া অন্য ধরনের বইয়ের টাইপিং সংক্রান্ত কাজ গতানুগতিক। কম্পিউটার টাইপিং জানা, টাইপিংয়ে ভালো স্পিড আছে এবং বানান সংক্রান্ত প্রাথমিক ধারণা আছে (কী ভাষার বই, তার উপর নির্ভর করে) এরকম যে কেউই গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ বা কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী - এই জাতীয় বইয়ের টাইপিংয়ের কাজ করতে পারে। এই ধরনের টাইপিংয়ের কাজ প্রকাশনা সংস্থায় বসে বা নিজের বাড়ি বসেও করা যেতে পারে। নিয়মিত এবং নিখুঁত কাজ করলে এই পেশা থেকে মোটামুটি আয় (পৃষ্ঠাসংখ্যা অনুযায়ী) করার সুযোগ অবশ্যই আছে (সায়েন্টিফিক ডিটিপি অপারেটরদের আয় অবশ্য আরও বেশি)।
🔯বইটি যদি বিজ্ঞানভিত্তিক (বা গাণিতিক) হয়, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র উপরের শর্ত গুলি (অর্থাৎ কম্পিউটার টাইপিংয়ে ভালো স্পিড এবং ভাষাগত প্রাথমিক ধারণা) পূরণ করলেই হবে না, তার সঙ্গে-সঙ্গেই ডিটিপি অপারেটরকে বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক চিহ্ন এবং গাণিতিক ফর্মুলা গুলি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হতে হবে|। টাইপিংয়ের ক্ষেত্রে একটি শব্দের বানান ভুল হওয়া আর একটি বিজ্ঞানভিত্তিক চিহ্ন বা সমীকরণ ভুল হওয়ার মধ্যে বিস্তর তফাৎ।
ꦅকারণ একটি বানান ভুল হলে সেটি পাঠক সহজেই বুঝে নিতে পারবেন (যদিও সেটিও হওয়া উচিত নয়)। কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের সম্পূর্ণ বিষয়টিই বুঝতে অসুবিধা হবে। এই কারণেই বিজ্ঞানভিত্তিক বই টাইপিংয়ের জন্য অত্যন্ত দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে দক্ষ টাইপিস্টের সঙ্গে-সঙ্গেই প্রুফ কারেকশনও উচ্চস্তরের হতে হবে। নইলে বইয়ে ভুল থেকেই যাবে। এক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বইয়ের লেখকেরাই প্রুফ কারেকশনের কাজটি করে থাকেন।
⛄আগে মূলত ডেস্কটপ পাবলিশিংয়ের কাজ পেজমেকার সফটওয়্যারে করা হলেও এখন আরও অত্যাধুনিক ইনডিজাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই কাজ করা হয়। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সফটওয়্যারে টাইপ করা লেখা সরাসরি পেজমেকার বা ইনডিজাইন সফটওয়্যারে কপি পেস্ট করার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ে ব্যবহৃত বিবিধ চিত্রগুলি আঁকার জন্য অ্যাডোব ফটোশপ এবং অ্যাডোব ইলাস্ট্রেটর সফটওয়ারের সাহায্য নেওয়া হয়।
⭕তবে এক্ষেত্রে ডিটিপি অপারেটরকে এই সবগুলি সফটওয়্যার সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। নিখুঁতভাবে বই টাইপিং করা, ছবি আঁকার সঙ্গে-সঙ্গেই আরও একটি অত্যাবশকীয় কাজ হল বইয়ের কভার ডিজাইন। যে কোনও বইয়ের কভার, বইটির মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই বুককভার যেন বইয়ের কনটেন্টের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে খুবই আকর্ষণীয় হয় ডিজাইনারদের সেটা নজর রাখা জরুরি।
𝔉যেহেতু বইয়ের কনটেন্ট সম্পর্কে ডিজাইনারদের ধারণা থাকে না, তাই এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বইটির লেখক বা লেখিকাকেই এই সম্পর্কে ধারণাটি দিতে হবে। সেই ধারণা এবং নিজের শিল্পীসত্ত্বাকে কাজে লাগিয়ে ডিজাইনাররা বইটির কভারটি তৈরি করবেন। সাধারণত দু'তিনটি ভিন্ন কভার তৈরি করা হয়। তার মধ্যে থেকে লেখক ও প্রকাশকের পছন্দ অনুযায়ী চূড়ান্তটি বেছে নেওয়া হয়।
💧তাই সবশেষে বলা যায়, বিজ্ঞান, বাণিজ্য বা কলা বিভাগের ছাত্রছাত্রী এবং যাঁদের মধ্যে শিল্পীসত্ত্বা আছে, তাঁরা সবাই ডিটিপির প্যাকেজগুলোকে একটু চর্চা করে নিয়ে এবং কম্পিউটার টাইপিংয়ের স্পিড বাড়িয়ে একটু নিখুঁত টাইপিংয়ের কাজ করতে পারলে অনায়াসে ফুল-টাইম বা পার্ট-টাইম রোজগারের জায়গা হিসাবে ডিটিপি অপারেটরের কাজ বেছে নিতে পারবেন।
লেখক পরিচিতি: 💖সন্দীপ দে এবং প্রিয়দর্শী মজুমদার ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইলেকট্রনিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। জয়ব্রত গোস্বামী নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম অ্যানালিস্ট (ইউনিভার্সিটি অফিসার)।