🔴 সাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের জমিতে মাঝেমধ্যেই ঢুকে পড়ে নোনা জল। সেই জল না চাষযোগ্য, না পানীয় জল হিসাবে ব্যবহারের উপযোগী। এই অবস্থায় সুন্দরবনের মানুষের মিষ্টি জলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এক অভিনব প্রকল্প পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে - আপাতত অপেক্ষা কেন্দ্রীয় ছাড়পত্রের। সেই অনুমোদন এসে গেলেই নয়া এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে দেওয়া হবে।
🅰এই প্রকল্পের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে, 'ওয়াটার ইউজার্স কমিটি'। যার প্রধান লক্ষ্যই হল - নানা উপায়ে বৃষ্টির জল জমিয়ে রেখে সেই জলেই চাষাবাদ, পশু চারণভূমি, মৎস্য চাষ প্রভৃতি করা হবে। পাশাপাশি, এই জল যাতে পানীয় হিসাবেও ব্যবহার করা যায়, সেই বন্দোবস্তও করা হবে। একইসঙ্গে, এই প্রকল্পের অধীনে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য বা বাদাবন রক্ষার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
🅰ইতিমধ্যেই জাতীয়স্তরে এই প্রকল্পের ভাবনাকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। বরাদ্দ অর্থ সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। স্থির হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অধীনে থাকা সুন্দরবনের ১১টি ব্লকের মধ্যে ৩৯টি দ্বীপে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হবে। সেই দ্বীপগুলি ইতিমধ্যে চিহ্নিতও করা হয়ে গিয়েছে। এই প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৪,১০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৩০ শতাংশ খরচ বহন করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর বাকি ৭০ শতাংশের ব্যবস্থা করবে বিশ্ব ব্যাঙ্ক।
𝓡রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন দফতরকে এই প্রকল্প রূপায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দফতরের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, নেদারল্যান্ডসের একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থা এই কাজে রাজ্য সরকারকে সহযোগিতা করবে।
🎶রাজ্যের তরফে খবর, এই প্রকল্পের অনুমোদন পেতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। সেই আবেদন মঞ্জুর হলেই প্রকল্পের কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের আশা, পরিকল্পনা মতো সবকিছু এগোলে ভোল পালটে যাবে সুন্দরবনের সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলির। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত ব্লকগুলিতে অবস্থিত মজা খালগুলি পরিষ্কার করে সেগুলিকে বৃষ্টির জল ধরে রাখার উপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয়েছে।
🍸জলসম্পদ উন্নয়ন দফতরের আরও দাবি, গত বছর মধ্যপ্রদেশের ভোপালে জল নিয়ে যে জাতীয়স্তরের সম্মেলন হয়েছিল, সেই মঞ্চে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প পরিকল্পনা প্রশংসা কুড়িয়েছিল সংশ্লিষ্ট সব মহলের। সেক্ষেত্রে নবান্নের আশা, শীঘ্রই কেন্দ্রের তরফে এই প্রকল্পের ছাড়পত্র পাওয়া যাবে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রকল্প শুরু করে দেওয়া সম্ভব হবে।