𝄹 ভাইজাগে আশুতোষ শর্মা শো। মধ্যপ্রদেশ থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার একা হাতেই জিতিয়ে দিলেন আইপিএলের প্রথম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে। শুরুর প্রথম ওভারেই শার্দুল ঠাকুরের জোড়া উইকেটে চাপে পড়ে গেছিল নিজেদের হোম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে শুরুটা যদি করে থাকেন শার্দুল, তাহলে শেষটা করলেন শর্মা।
𒐪গতবার পঞ্জাব কিংসে থাকার সময়ই একাধিক ম্যাচে শশাঙ্ক সিংয়ের সঙ্গেই লোয়ার অর্ডারে এসে নজর কেড়েছিলেন আশুতোষ শর্মা। সেই সুবাদেই এবারের আইপিএলের আগে এই ডানহাতি পাওয়ারহিটারকে দলে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস দল। ঠান্ডা মাথায় ধৈর্যশীল এবং দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে এলএসজির বিরুদ্ধে দলকে জিতিয়ে আশুতোষ বুঝিয়ে দিলেন, দল ভরসা করে কোনও ভুলই করেনি।
ꦅদলকে জিতিয়ে ম্যাচের সেরাও হলেন আশুতোষ। এরপর তিনি বললেন, ‘গতবারও আমি শেষদিকে এমন পারফরমেন্স করেছিলাম, তাই গোটা মরশুমেই আমি চেষ্টা করেছিলাম কীভাবে ম্যাচ ফিনিশ করা যায়, সেদিকে ফোকাস করেছিলাম। আমার নিজের ভরসা ছিল, যে শেষ ওভার পর্যন্ত খেললে ম্যাচের ফল যে কোনওরকম হতে পারে। ভিপরাজ আজকে খুব ভালো খেলেছে। অনেকটা প্রস্তুতি করেছিলাম, তাই নিজের ওপর ভরসা ছিল। আমি এই পুরস্কার উৎসর্গ করতে চাইব আমার মেন্টর শিখর ধাওয়ানকে ’।
আশুতোষ যখন নামে দিল্লির তখন করুণ দশা
💛আশুতোষ যখন খেলতে নেমেছিলেন তখন দিল্লি ক্যাপিটালসের অবস্থা ছিল খুবই করুণ। ৬.৪ ওভারের মাথায় সবেমাত্র ফাফ ডুপ্লেসিস আউট হয়েছেন। তখনও দরকার আরও ১৪০র বেশি রান। সেই অবস্থায় কোনও ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে ঠান্ডা মাথায় ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে রানের ধারা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তিনি, কিন্তু রান রেটের চাপ যাতে না আসে তাই মাঝেমধ্যেই চেনা স্টাইলে বড় শট মারছিলেন। তবে, নিজের ওপর একটা আলাদা কন্ট্রোর রেখেছিলেন, যাতে কোনও ভুল না করে ফেলেন।
১৫ ওভারের পর শুরু তাণ্ডব
🐓১৫তম ওভারের শেষে আশুতোষ শর্মার স্কোর ছিল ২০ বলে ২০ রান। আর দলের তখন স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৪৮। অর্থাৎ তখনও দরকার ছিল ৬০ রানের বেশি। এরপরই শুরু করেন নিজের ব্যাটিং তাণ্ডব। প্রিন্স যাদব ১৬তম ওভার বোলিং করতে এলে সেই ওভারে আসে ২০ রান, এর মধ্যে ১১ রান করেন আশুতোষ, বাকি ৯ রান ভিপরাজ নিগমের। এরপর ভিপরাজ আউট হতে চাপ বাড়ে, স্টার্ক তেমন ব্যাটিং করতে পারলেন না। ১৮তম ওভারে ফের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুললেন আশুতোষ, রবি বিষ্ণৌয়ের শেষ তিন বলে মারলেন ২টি ছয় এবং ১টি চার।
টানটান থ্রিলারে ম্যাচে জেতালেন আশুতোষ
﷽শেষ ২ ওভারে বাকি ছিল ২২ রান, দেখে মনে হচ্ছিল এই রান সহজেই তুলবেন আশুতোষ শর্মা। তবে স্ট্রাইক পান কুলদীপ, যিনি আবার ১৮.৩ ওভারের মাথায় রান আউট হলেন, তবে তার মধ্যেই আসল কাজের কাজটা সেড়ে ফেলেন দুই ব্যাটার। স্ট্রাইক যায় আশুতোষের কাছে। হাতে এক উইকেট থাকলেও মধ্যপ্রদেশের এই মারকাটারি ব্যাটার কোনওদিকে না তাকিয়ে প্রিন্স যাদবের ওভারের বাকি তিন বলে ১২ রান তুলে নেন।
𝓀শেষ ওভারে স্ট্রাইক পেয়েছিলেন মোহিত শর্মা। দরকার ছিল মাত্র ৬ রান, তবে এলএসজির জিততে প্রয়োজন ছিল স্রেফ মোহিতের উইকেটটি। প্রথম বলেই এলবিডাব্লুর বড় দাবি জানাল লখনউ, তবে ডিআরএস নিয়ে লাভ হল না। দ্বিতীয় বলে কভারের দিকে বল ঠেলে এক রান দিয়ে আশুতোষকে স্ট্রাইকে পাঠালেন মোহিত। আর তৃতীয় বলেই শাহবাজের বল উড়িয়ে ছয় মেরে দলকে জিতিয়ে দিলেন আশুতোষ। করলেন অপরাজিত ৬৬ রান। ৩১ বলের এই ইনিংসে মারলেন ৫টি ছয় এবং ৫টি চার।