২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালই তাঁর শেষ ম্যাচ হতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করতেন মহম্মদ শামি। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পথে থাকার সময়ে তাঁর বারবার মনে হয়েছিল যে তিনি আর ফিরতে পারবেন না। ভারতীয় ক্রিকেটে জসপ্রীত বুমরাহর ফিরে আসার গল্প অসাধারণ, কিন্তু মহম্মদ শামির প্রত্যাবর্💞তনের গল্পও কম কিছু নয়। বুমরাহর চোট যতই গুরুতর হোক, অন্তত হাঁটতে পারছিলেন। কিন্তু ৩৪ বছর বয়সি শামির জন্য সেটাও ছিল দূরূহ হয়ে গিয়েছিল। অথচ বৃহস্পতিবার তিনি আইসিসি টুর্নামেন্টে ১৯ ম্যাচে ৬০ উইকেট নিয়ে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বোলা⛄র হয়ে উঠেন।
আইসিসিকে দেওয়া সাকꦚ্ষাৎকারে বলছিলেন শ𓆏ামি বলেন, ‘আমার মনে হত, আবার কখন মাঠে পা রাখতে পারব? একজন ক্রিকেটার, যে সবসময় দৌড়াতো, সে এখন ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটছে! মনে নানা চিন্তা আসত—আবার খেলতে পারব তো? স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারব? অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দুই মাস তো মনে হত, ক্রিকেট কেরিয়ারই বুঝি শেষ হয়ে গেল।’
আরও পড়ুন … ISL 2024-25: আজই লিগ শিল্ড জিততে পারে মোহনবাগান! গোয়ার ম্যা🎶চ ড্র হলেই কি চ্যাম্পিয়ন♍? রইল অঙ্ক
অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দু'মাস মহম্মদ শামির ডান পা মাটিতেই পড়েনি। কৃষিকাজ ভালোবাসতেন, মাঠে দৌড়ে পায়ের শ🀅ক্তি বাড়াতেন, অথচ তখন দিনের পর দিন কেবল ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন। ক🎶খনও আইপিএল দেখতেন, কখনও বা সময় কাটাতেন বসে থেকে দিন গুনে।
মহম্মদ শামি বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের পর ডাক্তারকে প্রথম প্রশ্ন করেছিলাম, ‘কতদিনের মধ্যে মাঠে ফিরতে পারব?’ উনি বললেন, ‘আগে হা🦩ঁটা শেখো, তারপর দৌড়াবে, তারপর ক্রিকেট। খেলা এখন অনেক দূরের ব্যাপার।’ ৬০ দিন পর যখন প্রথমবার পা মাটিতে রাখার অনুমতি পেলাম, তখন এক শিশুর মতো ভয় লাগছিল! মনে হচ্ছিল হাঁটতে গিয়ে যদি কিছু হয়ে যায়?’
আরও পড়ুন … IPL😼-এ বয়স কোনও বড় বিষয় নয়… ৪৩ বছরের ধোনি আজও কীভাবে খেল💧ে চলেছেন? রহস্য থেকে পর্দা তুললেন MSD
আইপিএলের পর তিনি ধাপে ধাপে পুনর্বাসন শুরু করেন। প্রথমে ব্যথা ছাড়া হাঁটা, তারপর ধীরে ধীরে জগিং, পরে দৌড়ানো। শুরু থেকেই চ♈াপ না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু লোড বাড়তেই হঠাৎ তাঁর গোড়ালি ফুলে যায়। মহম্মদ শামিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক কর্তা জানিয়েছিলেন, ‘এটা নতুন চোট ছিল না। পুনর্বাসনের সময় এমনটা হয়,’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর কাছে সেই সময় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা ওকে বলতাম, ‘ক্রিকেট না দেখে শুধু রিহ্যাবেꦯর ওপর মনোযোগ দাও।’
আরও পড়ুন … ভিডিয়ো: WPL 2025-এ মেয়ের ♌ব্যাটে এত বড় জয়! আবেগে ভাসল কামালিনির পরিবার, সেলিব্রেশনে মাতল MI শিবির
এরপর শুরু হয় কঠোর পরিশ্রম। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে (এনসিএ) কাটাতেন মহম্মদ শামি। ফিটনেস ঠিক করতে ওজন কমান, গতিও বাড়ান। কিন্তু একটা জিনিস ঠিক হচ্ছিল না—ছন্দ। টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য বলেন, ‘শামি রিদম বোলার। ওর রানআপ, লোড-আপ, ফলো-থ্রু—সবটা♑ই তালমিলিয়ে চলে। একটাও ঠিকঠাক না থাকলে ও নিজের সেরাটা দিতে পারে না। তাই শামিকে সরাসরি অস্ট্রেলিয়া সফরে পাঠানো হয়নি। আমরা চাইনি ও আত্মবিশ্বাস হারাক।’
এ কারণেই রোহিত শর্মা স্পষ্ট বলেছিলেন, মহম্মদ শামি পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্য𝓀ন্ত তাঁকে বিবেচনা করা হবে না। শামি তখন ঘরোয়া ক্রিকেট—রঞ্জি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি, বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলতে থাকেন, যাতে ছন্দ ফিরে পান। এরপর ভারতীয় দলে ফিরে আসার সুযোগ পান টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এই বিষয়ে মহম্মদ শামি বলেন, ‘১৪ মাস ধরে পুনর্বাসনের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াটা বেশ কঠিন ছিল, কিন্তু প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে হয়। নিজেকে ফিরে পাওয়ার ক্ষুধা থাকতে হয়। যদি তা থাকে, তাহলে আবারও নিজের সেরাটা দেওয়া সম্ভব হয়।’