টলিউডে এক সময় জমিয়ে কাজ করেছেন অনামিকা সাহা। একদিকে যেমন দাপুটে ভিলেন, অন্যদিকে স্নেহময়ী মা। তাঁর অভিনেতা জীবনের ঝুল✅িতে নানা স্বাদের চরিত্র ভরা। তবে সবচেয়ে বেশি যে চরিত্রের জন্য তিনি পরিচিত তা হল 'বিন্দু মাসি'। কিন্তু পর্দায় তাঁর অভিন💦য় সকলকে মুগ্ধ করলেও, সেই অভিনয়ের জন্য শ্বশুরবাড়িতে কখনওই প্রশংসা পাননি তিনি। এমনকি তাঁর এই অভিনেতা সত্ত্বাকেও খুব একটা গুরুত্ব দেননি তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন অভিনেত্রী। জানালেন কেবল শ্বশুরের কথাতেই তিনি রয়ে গিয়েছেন সেই বাড়িতে।
আড্ডা স্টেশন নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে এই বিষয়ে তিন꧋ি মুখ খুলেছেন। তিনি জানান বাপের বাড়ি হোক বা শ্বশুরবাড়ি কোনও পরিবারের মানুষকেই তিনি তাঁর অভিনয় জীবনে পাশে পাননি। 'বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না'র বিরাট সাফল্যের পরও তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তা নিয়ে কোনও কিছুই বলেননি তাঁকে। আসলে তাঁদের মধ্যে কেবল ইংরেজি ছবি দেখারই তখন চল ছিল।
আরও পড়ুন: হাতে চোট, মুখ ভর্তি দাড়ি, বাইকের পিছনে দক্ষিণী🐠 সুন্দরীকে নিয়ে উত্তরবঙ্গে কার্তিক! কী হল হঠাৎ?
এক্ষেত্রে স্বামী বোধিসত্ত্ব মজুমদারও ব্যতিক্রম ছিলেন না, অথচ ♏তিনিও বাংলা ছবিরই একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অনামিকা বলেন, ‘আমার বরের সঙ্গে যখন প্রেম হল তখন তিনি লাইট হাউস, গ্লোব এই সব ছবি দেখতেন। সবটাই ইংরেজি ছবি। প্রথমে সে মুম্বইতে ছবির কাজের জন্য চেষ্টা করে ছিল। তারপর কলকাতায় ফিরে রবীন্দ্র ভ💦ারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রামা নিয়ে এম এ করল। করে শোভনলাল মুখোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীতে থিয়েটারে যোগ দেয় সে। শোভনদা আকাশবাণীতে ছিলেন। আমিও তখন রেডিয়ো নাটকের জন্য অডিশন দিই। তারপর শোভনদা ওঁর গ্রুপে আমাকেও নেন।' সেখানেই একটি নাটক করতে গিয়ে বোধিসত্ত্ব মজুমদারের সঙ্গে অনামিকার দেখা হয়।
তবে এরপরই প্রেমে পড়েননি ত𒊎াঁরা। মাঝে গড়িয়েছে অনেকটা জল। একবার একটা ছবির ডবিংয়ের সময় তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। সেই সময় একপ্রকার বোধিসত্ত্ব হাত ছাড়িয়ে ডাবিং স্টুডিয়োয় ঢুকে পড়েন অনামিকা। আর হাত ছাড়িয়ে চলে আসতে গিয়ে বোধিসত্ত্বর জামার কিছুটা অংশ ছিঁড়ে যায়। আর সেই ছেঁড়া জামা পরেই ঘন্টার পর ঘণ্টা বোধিসত্ত্ব বসে থাকেন ডাবিং স্টুডিয়োয়। অনামিকা জা꧑নান সেই সময় সৌমিত্র চট্টপাধ্যায় নাকি বলেছিলেন, ‘কী হল অনামিকা, দেবদাস বানিয়ে ফেলেছ তো একেবারে।’ তারপরই অভিনেত্রী বলেন, ‘আসলে ওঁর মধ্যে একটা জেদ ছিল। এই ভাবেই হয়েছিল।’
আরও পড়ুন: ডান্স বাংলা ডান্সে নিজের জন্য হিরো🌼ইন বেছে নিলেন যিশু, ভিলেন মিঠুন!♛ কার কাছে গেল প্রস্তাব
তবে তাঁদের মধ্যে প্রেম থাকলেও নাকি চিরকালই থেকেছে ইগোর লড়াই। অনামিকা জানান রূপের নাকি দম্ভও ছিল তাঁর স্বামীর মধ্যে। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘ও অনেক সুন্দর। আমি ওঁর মতো ফর্সা নই।▨ ওই রকম গ্ল্যামারাস নই। হয়তো ছবিতে ভালো লাগত আমাকে। কিন্তু এমনিতে তো তা নই। তাই ওঁর মধ্যে একটা অহংকার ছিল। কারণ উত্তম কুমারের স্ত্রী ওঁকে দেখে বলেছিলেন, ‘ওমা এ তো উতু রে’। উত্তম কুমারকে নাকি ছেলেবেলায় ওরকম দেখ❀তে ছিল। সেই জন্য একটা দম্ভ ছিল ওঁর মধ্যে।'
সেই সূত্রেই তিনি তাঁদের একটি নাটকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘যেমন ‘শয়তান’ নামে একটা নাটক আমরা একসঙ্গে করেছিলাম। সেখানে আমার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বোধিসত্ত্ব। ওই নাটকটা শেষ হওয়ার পর যখন সবাই দেখা কꦗরতে এসেছিলেন। তাঁরা বলছিলেন, ‘অনামিকা কী ভালো করেছ তুমি কী ভালো হয়েছে।’ তখন আমার বর, যদিও তখনও আমাদের বিয়ে হয়নি। ও এসে দাঁড়াল। ও দাঁড়াতেই অনেকে বলল বোধিদা আপনাকে যা সুন্দর দেখাচ্ছিল না। তখন ও রেগে গিয়ে বলেছিল, ‘আমাকে শুধু সুন্দর দেখাচ্ছিল। কেন আমি কি অভিনয়টা ভালো করতে পারিনি।’ তখন বিজয় রায়, যাঁর হাত ধরে অভিনয় জগতে এসেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, এঁর সঙ্গে বিয়ে করলে একটা ইগোর লড়াই হতে পারে।🍰’
অনামিকা জানান সত্যি তাঁদের মধ্যে একটা ইগোর লড়াই হয়েছিল। অনামিকা জানান এতগুলি দিন যে তিনি বোধিসত্ত্বর সঙ্গে কাটিয়েছেন, এখনও এই বিষয় রয়েছে। কিন্তু তাও একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন অনামিকা? এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে বিয়ে দিয়ে যখন আমার শ্বশুরমশাℱই এই 𒆙বাড়িতে এনেছিলেন তখন আমাকে হাত ধরে বলেছিলেন, ‘তুমি মুজমদার বাড়ির বউ হলে। কোনও দিন কোনও কিছু হলে এই বাড়ি ছেড়ে যাবে না’। আমি সেটাই মেনে চলি। তাঁরা কেউ বেঁচে নেই। কিন্তু যেখানেই থাকুন দেখতে পাচ্ছেন।’
তাছাড়াও অভিনেত্রী জানান তাঁর গায়ের রঙ চাপা ছিল বলে তাঁকে দেখতে গিয়ে নাকি তাঁর শাশুড়ি কেঁদেছিলেন। শুরুতে অবশ্য একথা বোঝেননি তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমার শাশুড়ি আমাকে যেদিন দেখতে গিয়েছিলেন আমাকে দেখতে গিয়ে কাঁদছিলেন। ওঁকে মেমসাহেবের মত দেখতে ছিল।' পরে এই বিষয়ে তিনি বোধিসত্ত্বকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অনামিকাকে বলেন, ‘তুমি কালো তাই।’ তখন অনামিকা বলেছিলেন, ‘আমি কালো তা তুমি জানতে না? তুমি আমাকে পছন্দ করলে কেন?’ এই প্রশ্নে বোধিসত্ত্ব বলেন, ‘বিয়ে তো আমার মা করবেন না আমি করব।’ এই প্রসঙ্গে অনামিকা বলেন, 'এটা ঠিক নয়। ছেলেমানুষি করে তখন হয়তো কথাটা বলেছিল। কিন্তু সেটাই সত্যি হয়ে গেল, আমি সুন্দরের জায়গাতেই হেরে গেলাম।𒊎'