সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর মামলায় বড় স্বস্তিতে ❀রিয়া চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবার। চার বছর পুরোনো মামলায় অভিনেত্রী, তাঁর ভাই শৌভিক চক্রবর্তী, তাঁর বাবা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তীর (অবসরপ্রাপ্ত) বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল সিবিআই। বম্বে হাইকোর্টের রিয়া ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের জারি করা লুক-আউট-সার্কুলার (এলওসি) বাতিল করেছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মহারাষ্ট্র সরকার ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখানেও মুখ পড়ল সিবিআইয়ের।
🃏বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে যে আবেদনটি 'তুচ্ছ' এবং অভিযুক্তরা ‘হাই প্রোফাইল’ হওয়ার কারণে দায়ের করা হয়েছিল।
🀅আদালত জানায়, ‘আমরা সতর্ক করছি। আপনারা এত ফালতু পিটিশন দাখিল করছেন, শুধুমাত্র অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হাই প্রোফাইল ব্যক্তি বলে…’। সিবিআইয়ের কৌঁসুলি যখন এই মামলার রায় চান, তখন বিচারপতি গাভাই বলেন, দু'জনেরই শিকড় সমাজের অনেক গভীরে। বিচারপতি গাভাই আরও বলেন, ‘আপনারা যদি চান আমরা সিবিআইয়ের কিছু প্রশংসা করি তাহলে আমরা পাশ কাটিয়ে যাব।’
ꦓসুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় ২০২০ সালে রিয়া চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের জারি করা লুক আউট নোটিস গত ফেব্রুয়ারি মাসে খারিজ করে দিয়েছিল বম্বে হাইকোর্ট।
⛄বিচারপতি রেবতী মোহিত দেরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপাণ্ডের বেঞ্চ রিয়া চক্রবর্তী, তাঁর ভাই এবং তাঁদের বাবার তরফে দায়ের করা পিটিশন মঞ্জুর করেছিলেন, তার আগে লুক আউট নোটিস জারি থাকার কারণে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ছিল রিয়া ও তাঁর পরিবারের উপর।
𝓰সিবিআইয়ের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও রিয়া চক্রবর্তীকে দুবাই মিট-অ্যান্ড-গ্রিট ইভেন্টে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া নিয়ে গত ডিসেম্বরে কম জলঘোলা হয়নি।
🐻বেঞ্চ ২০২০ সাল থেকে একটি বিচারাধীন মামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যেখানে সিবিআই চার্জশিট দাখিল করেনি, আইনি প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। আদালত এলওসি জারি করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে, রিয়া চক্রবর্তী পরিবারের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে অভিযুক্তরা সক্রিয়ভাবে আদালতের কার্যক্রম এড়িয়ে চলেছেন এমন দৃঢ় প্রমাণ থাকলেই লুক আউট জারি করা উচিত ছিল।
২০২০ সালের ১৪ জুন সুশান্ত সিং রাজপুতের বান্দ্রার বাড়িতে সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। যে ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। সুশান্তের মৃত্যুর দিন কয়েক আগেও ওই ফ্ল্যাটে সুশান্তের সঙ্গে সহবাস করতেন রিয়া। কিন্তু ৮ই জুন তিনি ওই অ্যাপার্টমেন্ট জেরে বেরিয়ে যান।
ඣঅভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার অভিযোগের আঙুল তোলে রিয়া ও তাঁর পরিবারের দিকে।
ꦕযদিও শুরু থেকেই সুশান্তের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন রিয়া। পরিবারের আবেদনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই মামলার তদন্তভার গিয়েছিল সিবিআইয়ের হাতে। ওই বছর অগস্ট মাসে এই মামলার দায়িত্ব যায় সিবিআইয়ের উপর। এরপর চার বছর কাটলেও সুশান্তের মৃত্যু মামলায় চুপ সিবিআই। অভিনেতা আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি খুন হয়েছিলেন, চার্জশিট দাখিল করে সেই কথাও জানাতে পারেনি সিবিআই।