টিয়াপাখির ঠোঁটের মতো লাল রঙের ঝাঁ চকচকে বনেট, সিলিন্ডারের ইঞ্জিন। গাড়ির বয়🌠স যে নব্বই বছর পেরিয়ে গিয়েছে, এই গাড়ি দেখে তা বোঝে কার সাধ্য, ঠিক যেন নতুনের মতো। চিরনতুন এই গাড়ি একেবারে উত্তম কুমারের মতো। কিন্তু মিল তো থাকবেই, কারণ স্বয়ং মহানায়ক চড়েছিলেন এই গাড়িত🅘ে।
গাড়িটি ১৯৩৫ সালের ফোর্ড মডেল সি। বর্𝔉তমানে এই গাড়ির মালিক রঞ্জিত গুপ্ত। তিনি সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন ‘মিল তো থ🎃াকবেই, কারণ উত্তমবাবু চড়েছিলেন এই গাড়িতে।’
রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্থান ক্লাবে 'ভিন্টেไজ অ্যান্ড ক্লাসিক কার অ্যান্ড বাইক শো' ছিল। সেখানেই এই গাড়ির দেখা মেলে। তবে শুধুই কি এই গাড়ি? সেই সময়কার ঐতিহ্যপূর্ণ বহু গাড়ি নিয়ে এদিন হাজির হয়েছিলেন তাদের মালিকরা। কোনও গাড়ির হয়তো ১৯৩৭ সালের আবার কোনও গাড়ি ১৯৭২ সালের, প্র🦄তিটি গাড়ির সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল নানা ইতিহাস ও জনশ্রুতি।
ওই শোয়ে দেখা মিলে ছিল ডাব্লু বি বি ৪৩৭। এই গাড়িটি দেশ স্বাধীন হওয়ার বহু আগের। তবে উত্তম কুমারের সঙ্গে জড়িত গাড়িটি ১৯৩৫ সালের ইউরোপিয়ান ফোর্ড মডেল সি। এটি কিনেছিলেন বীরেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। সে বছর শহর কলকাতায় আটটি এই মডেলের গাড়ি এসেছিল। ছ'🔯টি কিনেছিলেন ব্রিটিশ অফিসারা, বাকি দু'টির মধ্যে একটি কিনেছিলেন কলকাতার এক পার্সি ব্যবসায়ী। আর একটি কিনেছিলেন বঙ্গসন্তান স্বর্গীয় বীরেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
আরও পড়ুন: ‘চিনতে পারছে না…!’ সোনামণিকে নিয়ে কেন এমন বললেন প্রত꧅ীক🍸?
বর্তমানে তাঁর নাতি রঞ্জিত গুপ্ত এখন গাড়ির মালিক। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘না দাদু রায়বাহাদু✅র উপাধি পেয়েছিলেন, আর না তিনি জমিদার ছিলেন। কেবল দাদু সেই সময় এমন একজন বাঙালি যে ফোর্ড মডেল সি কিনেছিলেন। কিন্তু তা অবশ্য সেই সময় খুব একটা সহজ ভাবে নেননি ইংরেজরা। অনেক কটূ🔜ক্তি সহ্য করতে হয়েছিল ওঁকে।’
কিন্তু পেশায় মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার বীরেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত হার মানেননি। তিনি ইংরেজদের পক্ষ থেকে ফোর্ড সংস্থার কাছে গিয়েছিলন। বন্দরে ছ'মাস পড়ে এসেছিল বীরেনবাᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚ𒀱ᩚᩚᩚবুর সাধের গাড়িটি। সেই সময় যার দাম পড়েছিল ২৮৩৫ টাকা ছ'আনা। যা ওই সময়ের নিরিখে যথেষ্ট দামি ছিল।
কিন্তু এই গাড়ির সঙ্গে কীভাবে জড়িয়েছিল উত্তম কুমারের নাম?
রঞ্জিত গুপ্ত জানান, আসলে বিনোদন জগতেই কাজ করতেন বীরেন্দ্রবাবু। সেই সময় ছবিতে কৃত্রিমভাবে যে ঝড়-বৃষ্টি তৈরি করা হত, তিনি তা করতেন। ১৯৬৬ সালে শুটিং হচ্ছিল ‘শুধু একটি বছর’ ছবিটির। সেই ছবির পরিচালকও ছিলেন উত্তম কুমার। ছবিতে একটি গাড়ির দৃশ্য ছিল। তাই আগে থেকেই একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু যে গাড়িতে শ্যুটিং হওয়ার কথা ছিল, সেটা আসতে দেরি হয়। তখন স্টুডিওপাড়ার বাইরে সিগারেট খেতে বেরিয়ে বীরেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তর গাড়িটা দেখে পছন্দ হয় উত্তম কুমারের। তারপর? মহানায়ক বলেন💝, ‘এটাতেই শ্যুটিং করব।’
বাকিটা ইতিহাস। ১৯৩৫ সালে ‘এই জীবনের রং যদি বদলায়..তবু মনকে সবুজ 🎃করে রাখব…’ গানে লিপ মেলাতে মেলাতে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত দিয়েছিলেন মহানায়ক।