মার্কিন গদিতে ট্রাম্প আসতেই আমেরিকার সঙ্গে একাধিক দেশের কার্যত শুল্ক নিয়ে সংঘাত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত পার হতেই বাণিজ্যিক আঙিনায় দোলাচল শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফে কানাডা, মেক্সিকো, চিনের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা হতেই, পাল্টা মার্কিন পণ্যের ওপরও এই তিন দেশ পাল্টা শুল্কের ঘোষণা করে। ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত ঘিরে পাল🐭্টা দান দিয়ে বেজিংও একের পর এক মার্কিন পণ্যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করে দেয়।
বিশ্ব বাণিজ্যিক আঙিনায় রণদামামা বেজে গেল আমেরিকা ও চিনের শুল্ক যুদ্ধ ঘিরে। বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে বহু পণ্যে চাপিয়ে দিয়েছে শুল্ক। এছাড়াও গুগলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে তদন্ত শুরুর বার্তাও দিয়েছে জিনপিংয়ের দেশ। এদিকে, আবার তাইওয়ান ও চিন ঘিরে মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। চিনকে কার্যত খোঁচা দিয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাইওয়ানে চিনা আগ্রাসন 'সর্বনাশা' হতে পারে। এই আবহে দুই দেশের মধ্যে তুলকালাম বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। চিন জানিয়েছে, আগামী ১০ মার্চ থেকে একাধিক মার্কিন পণ্যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক (টারিফ) বসাবে বেজিং। এর আগে, ট্রাম্প প্রশাসন সোমবরা মধ্যারাত পার হতেই খাতায় কলমে মঙ্গলবার থেকে কানাডা ও মেক্সিকোর একাধিক পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক লাগু করেন। চিনের পণ্যꦜে বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক লাগু হয় আমেরিকায়। এদিকে, আমেরিকা থেকে চিনে আসা, মুরগির মাংস, ভুট্টা, গম সহ বহু পণ্যে চিন পাল্টা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে। চিনের তরফে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা গম, মুরগির মাংস, ভুট্টা,সুতিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়েছে। মার্কিন সোয়াবিন, বিফ, পর্ক, সোরঘাম, জলজ পণ্য,সবজি, ফল, দুগ্ধজাত পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক লাগু হয়েছে চিনে।’ যা কার্যকরী হবে ১০ মার্চ থেকে।
তথ্য বলছে, আমেরিকা থেকে আসা কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর ১৫ শཧতাংশ এবং অপরিশোধিত তেল, কৃষি সরঞ্জাম ও বড় গাড়ির উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে চিন। এদিকে, এই পরিস্থিতির প্রভাব উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক পরিস্থিতিতে পড়তে শুরু করছে। বিষয়টির বিরোধিতা করে চিন বলছে আমেরিকার একতরফা শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের পরিপন্থী। এর দ্বারা চিন ও আমেরিকার স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সম্পর্কও বিঘ্নিত হবে বলে দাবি করছে বেজিং। আর সেকারণেই আমেরিকাকে মোক্ষম জবাব দিতে ট্রাম্পের দেশ থেকে চিনে আসা পণ্যে পাল্টা শুল্কের অঙ্ক চাপিয়ে দিয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ।