🐻 গাজায় এবার ইজরায়েলের হামলার মৃত্যু হয়েছে প্যালেস্টাইনপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল বারহুমের।রবিবার রাতে দক্ষিণ গাজায় বৃহত্তম হাসপাতালে হামলা চালাল ইজরায়েল সেনা। ইজরায়েলের হামলার কারণে খান ইউনুসের নাসির হাসপাতালে আগুন ধরে গিয়েছিল। তাতে হামাসের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। ইসমাইল বারহুমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে হামাসও। গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রককে উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, যুদ্ধে আহত বহু মানুষের চিকিৎসা চলছিল নাসের হাসপাতালে। সেই সময়ে হামলা চালায় ইজরায়েলি বাহিনী। হাসপাতালের অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত বিভাগের (সার্জিক্যাল উইং) উপর বোমা পড়ে। সেখানে আগুন ধরে যায়। তাতে বহু রোগী নতুন করে আহত হয়েছেন। এক জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
🦋হামলার কথা স্বীকার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আইডিএফ জানিয়েছে, রবিবার রাতের হামলায় হামাসের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে অন্যত্র ইজরায়েলের হামলায় জখম হয়েছিলেন তিনি। নাসির হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। সেখান থেকেই ইজরায়েল বিরোধী পরিকল্পনাও তিনি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁকে মারতেই হাসপাতালে বোমা ফেলা হয়েছিল, মেনে নিয়েছে ইজরায়েলি সেনা।পরে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল বারহুম নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই ইজরায়েলি বাহিনী তাকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, 'রবিবার সন্ধ্যায় গাজার খান ইউনিসে প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে ইসমাইল বারহুমকে নাসির হাসপাতালে হত্যা করেছে।' তিনি আরও বলেন, 'ইসমাইল বারহুম ছিলেন গাজার হামাস সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী। নিহত প্রধানমন্ত্রী ইশাম দা-লিসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।' ইসমাইল বারহুম হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর অন্যতম সদস্য ছিলেন। এছাড়া, সংগঠনের অর্থনৈতিক দিকটিও তিনিই সামলাতেন। কিছুদিন আগে আকাশপথে ইজরায়েলের এক হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন তিনি।
ဣআইডিএফের বক্তব্য, তাদের হামলায় আশপাশের তেমন কোনও ক্ষতি যাতে না হয়, যতটা সম্ভব তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই হামলার দায়ও হামাসের উপরেই চাপিয়েছে তারা। অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবেই হাসপাতালগুলিকে নিজেদের আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন হামাস জঙ্গিরা। এভাবে তাঁরা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলছেন।এদিকে হামলার প্রসঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন, 'আমাদের এই হামলার মূল লক্ষ্য হল হামাসকে গাজার মাটি থেকে পুরোপুরি নির্মূল করা। যতক্ষণ ইজরায়েলি পণবন্দিরা গাজায় আটকে থাকবেন, ততক্ষণ ইজরায়েল কোনও দয়া দেখাবে না।' জানা যাচ্ছে, সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে দুই দেশের তরফে বন্দি প্রত্যার্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও ইজরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে এখনও পর্যন্ত বন্দি রয়েছেন ৬০ জন।
ꦕ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ইজরায়েল এবং হামাসের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। প্রায় ১৮ মাসের এই যুদ্ধে গাজা ভূখণ্ডে মৃত প্যালেস্টাইনিদের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে দাবি হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রকের। গত জানুয়ারি থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ইজরায়েলি সেনা নতুন করে হামলা শুরু করেছে বলে অভিযোগ। তাতেও নিহতের সংখ্যা কয়েকশো।