🍌 পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার দাবি আরও জোরদার হল বাংলাদেশে। এবার এ নিয়ে সরব হলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্বজন এবং আহতরা। এই ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ বাড়াতে রীতিমতো সময় বেঁধে দিলেন তাঁরা।
ꦉগত বছরের (২০২৪) জুলাই মাসে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর হাত ধরে বাংলাদেশে যে গণ-অভ্যুত্থান দেখা গিয়েছিল, সেই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারান। অনেকে চিরকালের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। পরবর্তীতে এই আক্রান্ত (যাঁরা আহত হয়েছিলেন) আন্দোলনকারীরা এবং নিহত আন্দোলনকারীদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-বন্ধুরা মিলেমিশে একটি সংগঠন তৈরি করেন। যার নাম - 'ওয়ারিয়র্স অব জুলাই'।
♎এবার হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাস্তায় নেমে ফের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে সামিল হলেন এই 'ওয়ারিয়র্স অব জুলাই'-এর সদস্যরা। বাংলাদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে - শনিবার (২২ মার্চ, ২০২৫) ঢাকা শহরে একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন তাঁরা। সেই মিছিল শেষ হলে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভও দেখানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।
✱সেই কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের বর্তমান মহম্মদ ইউনুস প্রশাসনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। জানানো হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর, যদি তেমনটা না করা হয়, তাহলে ঢাকা শহর অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে।
𝓀প্রতিবাদীদের বক্তব্য, যদি আওয়ামী লিগকে ফের বাংলাদেশে 'পুনর্বাসন' দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার আগে যাঁরা জুলাই আন্দোলনে পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে! যাঁরা সেই আন্দোলনে 'শহিদ' হয়েছেন, তাঁদের জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে!
♓এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকেও সতর্ক করেছেন 'ওয়ারিয়র্স অব জুলাই'-এর সদস্যরা। তাঁদের হুঁশিয়ারি, 'সতর্ক হয়ে যান। নইলে আরও একটি জুলাই দেখতে হবে। শুধরে যান, নইলে আপনাদের অবস্থাও আওয়ামী লিগের মতোই হবে। আমরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছি। আমাদের ভয় দেখাবেন না। খুনি হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। জুলাই আন্দোলন শুধু নির্বাচনের জন্য হয়নি। মানুষের বাকস্বাধীনতা এবং সমতা, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য হয়েছে। যা স্বাধীনতার এত বছর পরও বাংলাদেশ পায়নি।'
🌠এদিকে, এদিনই একটি জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এই বিষয়ে আমি এখনই কোনও কমেন্ট করব না। দয়া করে ওদিকে ডাইভার্ট করবেন না।'
ඣপ্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশের বর্তমান কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস জানিয়েছিলেন, তাঁদের প্রশাসনের অন্তত আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার কোনও পরিকল্পনা নেই। কিন্তু, ইউনুসের সেই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল সেদেশের নবগঠিত এবং বহু চর্চিত রাজনৈতিক দল - জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)