অস্থির বৈশ্বিক বাজারের জেরে রক্তাক্ত হয়েছিল ভ🐭ারতের শেয়ার বাজার। দীর্ঘ রক্তক্ষরণের পর অবশেষে বুল রানের আবির্ভাব ঘটল দালাল স্ট্রিটে। সোমবার ১০০০ পয়েন্টের লম্বা লাফ দিল সেনসেক্স। অন্যদিকে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ব্💞যাপক হারে ভারতীয় শেয়ার বাজারে কেনাকাটা শুরু করেছেন। আর শেয়ার বাজারের মতিগতি দেখে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, দীর্ঘ লোকসানের পর এবার হয়ত লক্ষ্মীলাভ হতে চলেছে বাজারে।
সোমবার রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন শেয়ার বাজার খোলার পরই গ্রিন সিগন্যাল দেখা যায় বাজারে। সকাল ১০টা নাগাদ ৯০০ প🐽য়েন্ট ছুঁয়ে ফেলে সেনসেক্স। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও🙈 বাড়তে থাকে। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ১০১১ পয়েন্ট (১.৩১ শতাংশ) বেড়ে পৌঁছে যায় ৭৭,৯১৬ তে। পাশাপাশি, ২৯৬ পয়েন্ট বাড়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিফটির সূচক। যার জেরে ১.২৭ শতাংশ বেড়ে নিফটি পৌঁছে যায় ২৩,৬৪৬ তে।তবে দিনের শেষে ১০৭৮.৮৭ পয়েন্ট (১.৪০ শতাংশ) বেড়ে সেনসেক্সের সূচক পৌঁছেছে ৭৭,৯৮৪.৩৮ তে। অন্যদিকে, নিফটির সূচক ৩০৭.৯৫ পয়েন্ট (১.৩২ শতাংশ) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩,৬৫৮.৩৫ তে। স্টক মার্কেটে এই উত্থানের ফলে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন একদিনেই ৪.৬৩ লক্ষ কোটি টাকা বেড়ে হয় ৪১৭.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা।
সপ্তাহের প্রথম দিনে যে শেয়ারগুলিতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে সেগুলি হল, হ্যাল, গেইল, কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, কানাড়া ব্যাঙ্ক। এছাড়াও ব্যাঙ্কিং সেক্টরেও ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে, এসবিআই, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, এক্সিস ব্যাঙ্ক, পিএনবির মতো শেয়ারগুলি ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি এই ভরা বাজারেও প🃏তন লক্🦋ষ্য করা গিয়েছে, জোম্যাটো, আদানি এনার্জি সলিউশন, টাইটান, ইনফোসিস, জেএসডব্লু এনার্জির মতো শেয়ারগুলিতে।
গত শুক্রবারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৭৫০০ কোটি টাকার শেয়ার ক্যাশ মার্কেটে কিনেছেন। আর এটাই এখনও পর্যন্ত বিগত চার মাসে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের তালিকায় শীর্ষে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্টক মার্কেটে ক্রমাগত কেনাকাটা করে চলেছেন। ২🌠০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পরপর শেয়ার বিক্রি চলছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের। এই সময়ের মধ্যে তারা মোট ২৯ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ভারতের বাজারে বিক্রি করেছিলেন।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় একমাসেরও বেশি সময় ধরে লাগাতার নিচের দিকে নামছিল শেয়ার বাজার। মূলত মার্কিন শুল্কনীতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতিই ভারতের বাজারের পতনের অন্যতম কারণ ছিল। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও ব্যাপকভাবে কমছিল এসে। সেই পরিস্থিতিতে বদল আসতেই সবুজের ছোঁয়া লাগল শেয়ার বাজারে। একটানা পতনের পর এবার শেয়া🀅র বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ছে ক্রমশ। তারই ফল দেখা যাচ্ছে শেয়ার বাজারে। পাশাপাশি বাজার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল ব্যাঙ্কের বৈঠকের ফলে আগামীতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত কেনাকাটাও এই উত্থানের অন্যতম কারণ। আর মর্গান স্ট্যানলির মতে ভারতের অর্থনীতি ൩ক্রমেই শক্তপোক্ত হচ্ছে, সেই কারণে বাজারে ভরসা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের।