শুধুমাত্র শরতেই নয়, বসন্তেও পূজিত হন দেবী দূর্গা। বসন্ত ঋতুতে, বিশেষ করে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে উদযাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বাসন্তী দুর্গা পুজো। প্রাচীন কাল থেকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ওড়িশা এবং বিহারে পালিত হয় এই উৎসব। জেনে অবাক হবে𝓀ন যে রাজা রামচন্ত্র শরৎ কালে দেবীর অকালবোধনের আগে দেবী দূর্গা পূজিত হতেন এই বসন্তেই। এর পিছনে রয়েছে এক অজানা ইতিহাস।
বাসন্তী দুর্গা পুজোর সূত্রপাত কোথায়
বাসন্তী দুর্গা পুজোর একটি আ🐽কর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে। এই পুজো প্রাচীন কাল থেকেই শুরু হয়। বলা হয় যে রাজা সুরথ প্রথম এই পুজো করেছিলেন। জানা যায়, রাজা সুরথ একজন মহান শাসক এবং যোদ্ধা ছিলেন, কিন্তু যুদ্ধে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা এবং পরাজয়ের মুখোমুখি হন। নিজেরই লোকদের দ্বারা প্রতারিত হওয়ার পর, তিনি বনে ঘুরে বেড়ান এবং ঋষি মেধার আশ্রমে আসেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে সমাধি নামে এক বণিকের দেখা হয়। ওই বণিকের পরিবারও তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছিল। কিন্তু সমাধি তবুও পরিবারের খারাপ চায়নি। তা 🐼দেখে রাজা সুরথ অবাক হয়ে যান। প্রশ্ন জাগে মনে।
তখন ঋষি মেধা ব্যাখ্যা করেছিলেন যে এটিই ছিল মহাম🌺ায়ার (দেবী দুর্গা) ইচ্ছা। দেবীর আশীর্বাদ লাভের আশায় তপস্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয় তাঁদের। ঋষির পরামর্শ অনুসরণ করে, রাজা সুরথ এবং সমাধি বসন্ত ঋতুতে দেবী দুর্গার পুজো করেন। দূর্গা সপ্তশতী, দেবী মাহাত্ম্য ও মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুযায়ী, এরপর তাঁদের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে, দেবী দুর্গা তাদের হারানো সম্পদ এবং রাজ্য ফিরিয়ে দিয꧒়েছিলেন। তখন থেকে, এই পুজো বাসন্তী দুর্গা পুজো নামে পরিচিত। কারণ এই পুজো বসন্তে (চৈত্র মাসে) করা হয়।
বাসন্তী দুর্গা পুজো ২০২৫ সময়সূচী
২০২৫ সালে বাসন্তী দুর্গা পুজোর সময়সূচী এখানে দেওয়☂া হল:
- ষষ্ঠী তিথি (৩ এপ্রিল, ২০২৫): দেবী দুর্গার প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে পূজা শুরু হয়।
- সপ্তমী পুজো এবং নবপত্রিকা স্নান (৪ এপ্রিল, ২০২৫): নয়টি গাছের স্নান সহ বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান করা হয়।
- দুর্গা অষ্টমী এবং সন্ধি পুজো (৫ এপ্রিল, ২০২৫): সন্ধি পূজা (অষ্টমীর সময় একটি বিশেষ আচার) সহ প্রধান পূজা।
- নবমী পুজো (৬ এপ্রিল, ২০২৫): বিসর্জনের আগে শেষ পূজা।
- দশমী পুজো ও বিসর্জন (৭ এপ্রিল, ২০২৫): দুর্গা প্রতিমার বিসর্জন এবং উৎসবের সমাপ্তি।
এই বছরে দেবী দূর্গা কীভাবে আসছেন
২০২৫ সালে, দেবী দুর্গা হাতির পিঠে চড়ে পৃথিবীতে আসছেন বলে ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। হিন্দু ঐতিহ্য অন🧸ুসারে, হাতিকে সম্পদ ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বছর, যেহেতু দেবী হাতির পিঠে ভ্রমণ করছেন, তাই এটি একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সম্পদ এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।