এবার জলপাইগুড়ির দুটি চা–বাগানে হানা দিল চিতাবাঘ। আর এই চিতাবাঘ একজনের কান ছিঁড়ে নিয়ে গেল। অপরজন🍸 প্রচণ্ড জখম হলেও কোনওক্রমে লড়াই করে প্রাণে বাঁচলেন। এই দুটি ঘটনা একইদিনে ঘটেছে। চিতাবাঘের জোড়া হানায় এখন তুমুল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার দুই চা–বাগানে। বানারহাটের লক্ষ্মী꧂পাড়া চা বাগান। সেখানের এক সর্দারের কান ছিঁড়ে নিয়ে গেল চিতাবাঘ। আবার মাটিয়ালি ব্লকের নাগেশ্বরী চা–বাগানে চিতাবাঘ আক্রমণ করল। তখন এক শ্রমিক চিতাবাঘের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ বাঁচালেন। তবে জখম হলেন মারাত্মক। মঙ্গলবার জোড়া চিতার হানায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই দু’জনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে বন দফতর।
এদিকে বন দফতর সূত্রে খবর, লক্ষ্মীপাড়া চা–বাগানের সর্দার গুদাম লাইনের বাসিন্দা আগনু ওরাওঁ। তিনি একটি নালার সামনে দাঁড়িয়ে শ্রমিকদের কাজ দেখাশোনা করছিলেন। তখনই হঠাৎ নালা থেকে একটি চিতাবাঘ ওই সর্দারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।ඣ আর ওই চিতাবাঘ এক থাবায় সর্দারের কান ছিঁড়ে নিয়ে চলে 🌃যায়। চিতাবাঘের এই কাণ্ডে তুমুল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এখন অনেকেই ওই চা–বাগানে গিয়ে কাজ করতে চাইছেন না। আগনু ওরাওঁয়ের কান ছিঁড়ে নেওয়ার ঘটনা নিজের চোখে দেখেছেন শ্রমিকরা। যা এখনও ভুলতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র হাতে যোগ দেওয়া যাবে না, নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের
অন্যদিকে এই ঘটনা দেখে ওখানে থাকা বাকি শ্রমিকরা চিৎকার করতে শুরু করেন। এই হট্টগোল দেখে তখনই ওখান থেকে চিতাবাঘটি ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। আর রক্তাক্ত অবস্থায় ওখানকার শ্রমিকরা জখম সর্দার আগনু ওরাওঁকে উদ্ধার করে সুলকাপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর কানের ওখানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। এখন সেখানেই এই সর্দারের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার পর চা–বাগানের ওই সেকশনে বেশ কয়েক ঘণ্টা আতঙ্কে কাজ বন্ধ থাকে। এই ঘটনা নিয়ে ডায়নার রেঞ্জার অশেষ পাল বলেন, ‘চ🔥িতাবাঘের থাবায় একজনের কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার বন দফতর নিয়েছে।
এছাড়া মাটিয়ালি ব্লকের নাগেশ্বরী চা–বাগানে চিতাবাঘের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন চা–বাগানের শ্রমিক সমীর খেরিয়া। পাতা তোলার কাজ করার সময় চিতাবাঘ তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সমীর খেরিয়া হাতের কাছে পড়ে থাকা চা–গাছের ডাল দিয়ে চিতাবাঘের মুখে মারেন। আর চিতাবাঘের নাকে পর পর কয়েকটি ঘুসি মারেন। তখন সেখান থেকে চম্পট দেয় চিতাবাঘ। ততক্ষণে অনেক জখম হয়ে পড়েন সমীর খেরিয়া। তাঁকে উদ্ধার করে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চলছে তাঁর চিকিৎসা। এই বিষয়ে খুনিয়ার রেঞ্জার সজলকুমার দে’র বক্তব্য, ‘সমীর খেরিয়া সাহসিকতার জন্য প্রাণে বাঁচলেন। তাঁর চিকিৎসা চল💟ছে।’