༺ দিল্লি মানেই দিওয়ালির সময় পুরো ধোয়াঁশা ভরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রত্যেক বছরই কম বেশি দিল্লির বায়ু দূষণ শিরোনামে উঠে আসে। এরই মধ্যে এবারে নভেম্বরের ১৪ তারিখ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত বিসিসিআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত-দঃ আফ্রিকা সিরিজের একটি টেস্ট দিল্লিতে করার, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়ে গেছে। কারণ রাজধানীর পরিবেশের অবস্থা ওই সময় অত্যন্ত খারাপ হয়, যা মানুষের শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
𒐪২০২৩ বিশ্বকাপের সময়ও দেখা গেছিল একইরকম সমস্যা। বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগে দুই দল ঠিকভাবে অনুশীলনও করতে পারেননি দিল্লিতে। আর সেখানেই বোর্ডের পক্ষ থেকে রোটেশন পলিসি মেনে ম্যাচ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যের কথা কি গুরুত্ব দেওয়া হল না এক্ষেত্রে?
﷽বিসিসিআই অবশ্য নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। তাঁরা দিল্লিতে ম্যাচ দেওয়ার কারণ হিসেবে বোর্ডের রোটেশন পলিসিকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, এছাড়াও পাল্টা যুক্তি রয়েছে তাঁদের। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিসিসিইয়ের সচিব দেবজিত সাইকিয়া জানিয়েছেন, যে প্রত্যেক বছর দিল্লিতে বায়ু দূষণের ঘটনা ঘটে না। যদিও এই কথাটা আদৌ ১০০ শতাংশ ঠিক কিনা, তা পরিবেশবিদরাই বলতে পারবেন না।
রোটেশন পলিসির দোহাই দিচ্ছে বোর্ড
💙বিসিসিআইয়ের সচিব আরও জানান, ‘আমরা সব দিক খতিয়ে দেখেই রোটেশন পলিসি মেনে সবার সঙ্গে আলোচনা করে এখানে খেলা দিয়েছি। পলিউশন নিয়ে যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, সেটা প্রত্যেক বছর এখানে হয় না ’। যদিও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান যদি তুলে ধরা যায়, তাহলে কিন্তু অন্য কথাই বলছে।
অতীতেও দিল্লিতে সমস্যায় ক্রিকেটাররা
🎐এই যেমন ২০১৭ সালে ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা মাস্ক পরে টেস্ট ম্যাচে খেলেছিলেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারকে বমি করতে দেখা যায় মাঠেই একদিনের ম্যাচের সময়। ২০১৬ সালে রঞ্জি ট্রফির দুটি ম্যাচও বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল ক্রিকেটারদের মাথা ধরা এবং চোখ জ্বালা করার জন্য।
ডিডিসিএর তরফে দেওয়া হচ্ছে প্রতিশ্রুতি
🔥ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ডিডিসিএর সচিব অশোক শর্মা আশ্বস্ত করেছেন, যে তাঁদের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের কথা ভেবে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছেন, ‘ক্রিকেটাররা যাতে কোনও সমস্যা বা প্রতিকুলতা ছাড়া টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারে, সেই জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা নেব। আমাদের অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তুলনামুলকভাবে ফাঁকা জায়গায় তৈরি, আর আশে পাশে সবুজ জমিও প্ররচুর রয়েছে, তাই অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে বায়ুর গুনগত মান তুলনামুলক ভালো থাকবে বলে আশা করছি। দিল্লিতে অনেকদিন হয়ে গেল কোনও টেস্ট ম্যাচ হয়নি। তাই বিসিসিআই আমাদের এখন ম্যাচ দেওয়ায়, আমাদের সূচি মানতে হবে। তবে আমাদের মনে হয় ডিসেম্বরের তুলনায় নভেম্বরে বায়ু দূষণের পরিমাণ কম থাকে ’।
চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন
🍒যদিও চিকিৎসকমহল কিন্তু বিষয়টা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁরা জানাচ্ছেন রাজধানীতে নভেম্বর মাসে বায়ু দূষণের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়, তাই সেখানে কোনওরকম ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। কারণ একবার ম্যাচ শুরু হলে তা বন্ধ করাও যাবে না, আর জোর করে খেলাতে গেলে তা ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারণ হলেও হতে পারে।