ভক্তের ভগবান শব্দবন্ধ শুধু ভারতের পুরাণ ভাবনায় প্রাসঙ্গিক, এমনটা নয় মোটেও। বরং ভারতীয় ক্রিকেটে ভক্তের সঙ্ꦓগে সুপারস্টারদের সম্পর্ক অনেক সময় এতটাই আবেগে জড়িয়ে যায় যে, ক্রিকেটের সুপারস্টারদের ভগবানের সিংহাসনে বসিয়ে নেন অনুরাগীরা। স্বপ্নের নায়কদের সঙ্গে দেখা করার জন্য যে কোনও মাশুল দিতে তৈরি হয়ে যান সমর্থকরা। সাধে কী আর ভারতে ক্রিকেটকে ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়!
সচিন তেন্ডুলকর থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনি, বির🐟াট কোহলি থেকে রোহিত শর্মা, ভারতীয় তারকাদের অনুরাগীর সংখ্যা গুণে শেষ করা মুশকিল। এই অনুরাগীদের মধ্যে অনেককেই প্রায়শ নিরাপত্তার বেড়াজাল টপকে মাঠে ঢুকে পড়তে দেখা যায়। কারও উদ্দেশ্য শুধু একবার সামনে থেকে দেখা করা। কেউ আবার ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখতে চান বিশেষ একটি মুহূর্ত। আবার কেউ নিজের প্রিয় তারকাকে নিছক প্রণাম করার জন্যই ঢুকে পড়েন মাঠে।
বিষয়টা যে নিতান্ত অপ্রীতিকর, সন্দেহ নেই কোনও। মাঠে ঢুকে খেলার মাঝে বিঘ্ন সৃষ্টি করা আদর্শ উদাহরণ হতে পারে না। তবে শাস্তি দিয়েও এমন ঘটনা আটকানো সম্ভব হয় না। গত ২২ মার্চ ইডেনে এমনই ঘটনার ঘটে ফের একবার। ম্যা൩চের মাঝে মাঠে ঢুকে কোহলির পায়ে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায় এক কিশোরকে। বিরাট তাঁর সঙ্গে মোটেও বিরূপ আচরণ করেননি। বরং সংশ্লিষ্ট অনুরাগীকে কোহলি বুকে টেনে নেন এবং তাঁকে ধরতে আসা নিরাপত্তারক্ষীদের অনুরোধ করেন সেই দর্শককে কিছু না করার জন্য।
যদিও আয়োজক সিএবির তরফে এমন ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া যথাযথ নয় বলে মনে করা হয়। কলকাতা পুলিশ ঘটনার পরেই গ্রেফতার করে ঋতুপর্ণ পাখিরা নামক সেই দর্শককে। ময়দান থা🌠নায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়া ঋতুপর্ণের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হলেও তিনি শেষমেশ মুক্তি পেয়ে যান। কাজটা যে যথাযথ নয়, সেটা মেনে নিয়েও পাখিরার দাবি, কোহলি তাঁর কাছে ভগবানের মতো। তাই ঈশ্বরকে প্রণাম করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেই আবেগ থেকেই কাজটা করে বসেন। নিজের কাজের জন্য যে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন তিনি, সেটাও ব🥀োঝা যায় ঋতুপর্ণর কথায়।
ঋতুপর্ণ এও জানিয়েছেন যে, কোহলি সেদিন তাঁকে ঠিক কী বলেছিলেন। পাখিౠরা জানান, কোহলি তাঁর নাম জানতে চান এবং বলেন যে, তাড়াতাড়ি পালা। পরে যে নিরাপত্তারক্ষীরা পাখিরাকে ধরতে মাঠে গিয়েছিলেন, তাঁদেরকে কোহলি বলেন ঋতুপর্ণকে কিছু না করে ছেড়ে দিতে।