ꦑ ভারতীয় সংস্কৃতিতে মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কেবল আধ্যাত্মিক শক্তির উৎসই নয়, বরং মনে শান্তি এবং ইতিবাচকতাও প্রদান করে মন্দির। প্রায়শই মানুষ বাড়ির কাছে মন্দির তৈরি করে যাতে আধ্যাত্মিক সুবিধা পাওয়া যায় এবং পরিবেশ বিশুদ্ধ থাকে। কিন্তু বাড়ির কাছে মন্দির থাকা কি সত্যিই শুভ? বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, বাড়ির কাছে মন্দির থাকা শুভ এবং অশুভ উভয়ই হতে পারে। এটি সম্পূর্ণরূপে মন্দিরের দিক, অবস্থান এবং উচ্চতার উপর নির্ভর করে।
বাড়ির কাছে কখন মন্দির থাকা শুভ
- পূর্ব বা উত্তর দিকে অবস্থিত - যদি মন্দিরটি বাড়ির সামনে বা কাছাকাছি পূর্ব বা উত্তর দিকে অবস্থিত হয়, তবে এটি শুভ বলে বিবেচিত হয়। এটি ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিক শান্তি প্রদান করে।
- ছোট মন্দির - যদি মন্দিরটি আকারে খুব বড় না হয় এবং শুধুমাত্র সাধারণ ধর্মীয় কার্যকলাপের জন্য তৈরি হয়, তাহলে এর শুভ প্রভাব রয়েছে।
- মন্দির এবং বাড়ির মধ্যে সঠিক দূরত্ব থাকা উচিত - যদি বাড়ি এবং মন্দিরের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে, তাহলে বাস্তু অনুসারে এটি উপকারি। এর ফলে, ইতিবাচক শক্তি বজায় থাকে।
বাড়ির কাছে কখন মন্দির থাকা অশুভ
মন্দিরের চূড়াটি বাড়ির চেয়ে উঁচু এবং খুব কাছে - 🅠যদি মন্দিরের চূড়াটি বাড়ির চেয়ে উঁচু এবং খুব কাছে হয়, তবে এটি একটি বাস্তু ত্রুটি হিসাবে বিবেচিত হয়। এটি পরিবারের সদস্যদের জীবনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
মূল দরজার ঠিক সামনে –𓄧 যদি মন্দিরের প্রবেশদ্বারটি বাড়ির মূল দরজার ঠিক সামনে থাকে, তাহলে তা অশুভ বলে বিবেচিত হয়। এর ফলে ঘরে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে।
সন্ধ্যা ও সকালের ঘণ্টাধ্বনির শব্দে বিরক্ত - 🐻মন্দির থেকে ক্রমাগত ঘণ্টাধ্বনি যদি পরিবারের সদস্যদের বিরক্ত করে, তাহলে তা মানসিক অস্থিরতা এবং স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
মন্দিরটি নিচু স্থানে বা গর্তে অবস্থিত - 🌠যদি মন্দিরটি বাড়ির তুলনায় নিচু স্থানে বা গর্তে অবস্থিত হয়, তাহলে এটি আর্থিক সমস্যা এবং নেতিবাচক শক্তির জন্ম দিতে পারে।
বাস্তু দোষ এড়াতে প্রতিকার
🐠যদি আপনারও বাড়ির খুব কাছাকাছি মন্দির থাকে, তাহলে বাড়ির দেওয়ালে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধিকারী রং ব্যবহার করুন এবং বাস্তু যন্ত্র (যেমন পঞ্চমুখী বজরংবলীর ছবি) রাখুন। মন্দির এবং বাড়ির মধ্যে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। যদি বাড়ির প্রধান দরজা মন্দিরের প্রবেশদ্বারের বিপরীতে থাকে, তাহলে মাঝখানে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দিন। যদি মন্দিরটি খুব উঁচুতে থাকে, তাহলে বাড়ির ছাদে তুলসী গাছ লাগানো ভালো। বাড়ির কাছে মন্দির থাকা শুভ নাকি অশুভ তা সম্পূর্ণরূপে তার অবস্থান এবং বাস্তু নিয়মের উপর নির্ভর করে। সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে, যে কোনও নেতিবাচক প্রভাব কমানো যেতে পারে এবং ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করা যেতে পারে।