ভারত বিরোধিতার পথ ছেড়ে মোদীর সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। ব্যাঙ্ককে সেই বৈঠক হয়েছে। এই আবহে ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেছেন, মোদী-ইউনুস বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে🉐। শফিকুল বলেন, 'বৈঠকে পারস্পারিক স্বার্থ সংক্রান্ত ইস্যুতে কথা হয়েছে।' তিনি দাবি করেন, বৈঠকে নাকি শেখ হাসিনার ইস্যুও উত্থাপন করেন ইউনুস। এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে ইউনুসের সঙ্গে ব෴ৈঠক নিয়ে বলা হয়েছে, 'গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে সীমান্তে অনুপ্রবেশ আটকানো নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদিকে এমন কিছু যেন না বলা হয়, যাতে উত্তেজনা বাড়ে। এদিকে বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিষয় নিয়ে তদন্তের আর্জি জানান। এদিকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টির ওপর বাংলাদেশি সরকারকে জোর দিতে আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী।'
উল্লেখ্য, দিন♎ কয়েক আগেই উত্তরপূর্ব ভারত নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। এরই মাঝে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে বসেছিলেন মহম্❀মদ ইউনুস। জল্পনা তৈরি হয়েছিল তাঁদের সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে। এরই মাঝে বাংলাদেশের তরফ থেকে দাবিও করা হয়েছিল যে ৪ এপ্রিল মুখোমুখি সাক্ষাৎ হবে ইউনুস-মোদীর। সেই মতোই আজ ব্যাঙ্ককে মোদীর সাক্ষাৎ পেলেন ইউনুস। সেই বৈঠকে ভারতের তরফ থেকে হাজির ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও। এদিকে বাংলাদেশের তরফ থেকে হাজির ছিলেন সেই দেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং আরও অনেকে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকেই মোদীর সঙ্গে ইউনুসের একান্ত বৈঠকের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই বিষয়টি নিয়ে অবশ্য প্রাথমিক ভাবে ভারত সরকারের তরফ থেকে নিশ্চিত ভাবে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি ঢাকাকে। বৈঠক নিয়ে একপ্রকার ঝুলিয়েই রাখা হয়েছিল বাংলাদেশকে। এরই মাঝে ইউনুসের 'সুর' বদলেছিল অনেক ক্ষেত্রে। এমনকী ঢাকার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল, চিন সফরে যাওয়ার আগে ইউনুস ভারত সফরে আসতে চেয়েছিলেন। তবে সেই বিষয়ে দিল্লির তরফ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাঙ্ককে অবশেষে মুখোমুখি হলেন মোদী এবং ইউনুস। এরই মাঝে সম্প্রতি চিন সফরে গ🅘িয়ে ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন ইউনুস। যদিও পরে ঢাকার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ইউনুসের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে মোদী আজ মিষ্টি ভাষায় বলে দেন, এমন কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। এদিকে সংখ্যালঘু অত্যাচার ইস্যুতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যতই দায় ঝেড়ে ফেলুক, ভারত যে ঢাকাকে এই ইস্যুতে রেহাই দেবে না, তা বুঝিয়ে দেন মোদী।
এদিকে বাংলাদেশের তরফ থেকে শফিকুল আলম আবার আজ দাবি করেন, 'শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার। এছাড়া তিস্তা এবং গঙ্গা নিয়ে কথা হয়েছে দুই নেতার। আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।' কয়েকদিন আগে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষﷺাৎকারে ইউনুস বলেছিলেন, 'ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থেকে উপায় নেই'। এদিকে দাবি করেছিলেন, সরকারে আসার পরই নাকি মোদীর সঙ্গে 'কথা' হয়েছিল তাঁর। অনেক বিশ্লেষকেরই মত, থাইল্যান্ডে আসন্ন বিমসটেক সম্মেলনে মোদীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করার জন্যেই 'সুর' নরম করেছেন ইউনুস। তবে এই ইনুসই আবার চিন সফর থেকে ফ🔯িরে এসে 'সেভেন সিস্টার্স' নিয়ে প্রত্যক্ষ হুঁশিয়ারি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে নিউইয়র্কেও মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে বিফল হয়েছিলেন ইউনুস। এবার ব্যাঙ্ককে সেই সাক্ষাৎ সম্ভব হল অবশেষে।