𓆉 গতকাল (বৃহস্পতিবার - ৩ এপ্রিল, ২০২৫) সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অশিক্ষক কর্মচারীর চাকরি বাতিল হতেই দিল্লি থেকে পাঠানো ভিডিয়ো বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে নিশানা করেছিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। পালটা সাংবাদিক সম্মেলনে সুকান্তর নাম করে তাঁকে নিশানা করেন মমতাও। তার প্রেক্ষিতে আজ (শুক্রবার - ৪ এপ্রিল, ২০২৫) ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
🎐এদিন দিল্লিতেই একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন সুকান্ত মজুমদার ও তাঁর দলীয় সহকর্মী সম্বিত পাত্র। সেই সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়, কালীঘাটের কাকু থেকে শুরু করে পার্থ-অর্পিতা - সকলেরই প্রসঙ্গে টেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে তুলোধনা করেন দুই বিজেপি নেতা। ফের একবার সরাসরি নিশানা করেন মমতাকে। অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন।
ﷺবিজেপির বক্তব্য, যে ২৬ হাজার (প্রায়) মানুষের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে, তাঁদের মধ্য়ে প্রায় ২০ হাজার প্রার্থীই সৎভাবে চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু, আজ তাঁদেরও চরম শাস্তি পেতে হল। অথচ, তাঁরা কোনও দোষ করেননি!
🍒এই চাকরিহারাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে সুকান্ত-সম্বিতরা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলেই শিক্ষকদের চাকরি বাঁচাতে পারতেন। কারণ, কলকাতা হাইকোর্ট আগেই বলেছিল, যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি আদায় করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হোক। যাতে নিরপরাধ কেউ শাস্তির কোপে না পড়েন।
🍬বিজেপির ইঙ্গিত, যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা হলেই আর অনেক বিষয় সামনে চলে আসত। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পরামর্শদাতারা 'সরকার বাঁচাতে দুধ আর জল মিশিয়ে দিতে বলেছিল'! বিজেপির আরও দাবি, বেআইনি নিয়োগ আড়াল করতে এবং দোষীদের বাঁচাতেই রাজ্য মন্ত্রিসভা নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টে 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালাকি ধরা পড়ে গিয়েছে' বলে দাবি করে বিজেপি। আর এই কারণেই রাজ্য মন্ত্রিসভার সকলেরই জেলে যাওয়া উচিত বলে মনে করে তারা।
ꦰএই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় সামনে আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তাঁর নাম নেন। সিপিআই(এম), আদালত, বিচারব্যবস্থা - সহ সব পক্ষকেই দোষারোপ করেন। কিন্তু, 'তৃণমূল কংগ্রেসের যে নেতারা টাকা নিয়ে' বেআইনিভাবে অযোগ্যদের 'চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন', মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় কেন তাঁদের নাম নিলেন না, এদিন সেই প্রশ্ন তোলেন সুকান্ত।
♏এই প্রসঙ্গেই ফের একবার কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কথা তোলেন বিজেপি নেতারা। তাঁরা বলেন, সিবিআই-এর কাছে কালীঘাটের কাকুর অডিয়ো ক্লিপ রয়েছে। তাতে তাঁকে 'পার্থকে ২৫ কোটি, অভিষেককে ২০ কোটি টাকা' দেওয়ার কথা বলতে শোনা গিয়েছে। এই অভিষেক আসলে কে, তা সকলেই জানেন বলে তোপ দাগেন বিজেপি নেতারা।
ܫপ্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালেই গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়। বিজেপির বক্তব্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অ্যারেস্ট মেমোয় গার্ডিয়ান ও রিলেটিভ-এর জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নাম লেখা রয়েছে! অর্থাৎ - মমতাই তাঁর পথপ্রদর্শক। বিজেপির প্রশ্ন, দুর্নীতির অভিযোগে পার্থকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে তাঁর 'গার্ডিয়ান' বা পথপ্রদর্শক মমতা কেন গ্রেফতার হবেন না? কেন তাঁকেও জেলে পাঠানো হবে না?
🎶বিজেপির পক্ষ থেকে এদিন ফের একবার মমতার ইস্তফা দাবি করা হয়। তাদের হুঁশিয়ারি, এরপরও যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় পদত্যাগ না করেন, তাহলে জনতাই তাঁকে গদিচ্যুত করবে।