প্রতিনিয়ত বাড়ছে একের এক এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা চমকে দিচ্ছেন বিশ্বকে। দৈত্যাকার ব্ল্যাক হোল আবিষ্কার থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়ার ফিউশন চুল্লি, সবই অত্যাশ্চর্য। মহাকাশকে নানান দৃষ্টিকোণ থেকে চিনতে গিয়ে এরই মধ্যে এবার নতুন মহাসাগরের সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন তাঁরা। পৃথিবীর ভূত্বকের নীচে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশাল সমুদ্র। পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ৭০০ কিলোমিটার নীচে রিংউডাইট নামক একটি পাথরে জমা হয়েছে এই ভূগর্ভস্থ মহাসাগরটি। এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠের সমস্ত মহাসাগরের মোট আয়তনের তিনগুণ বলে অনুমান করছেন বিজ্ঞানীরা।রিংউডাইট পাথর কীভাবে এত জল শোষণ করেআবিষ্কারের ফলাফলগুলি 'ডিহাইড্রেশন মেল্টিং অ্যাট দ্য লোয়ার ম্যান্টেল' নামের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। রিংউডাইটের বৈশিষ্ট্যগুলিও এতে ব্যাখ্যা করে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আবিষ্কারকারী দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভূ-পদার্থবিদ স্টিভ জ্যাকবসেন জানিয়েছেন, 'রিংউডাইট একটি স্পঞ্জের মতো, তাই এটি অনায়াসেই জল শোষণ করতে পারে। আর রিংউডাইটের স্ফটিক কাঠামোর মধ্যে এমন বিশেষ কিছু রয়েছে, যার ফলে এটি হাইড্রোজেনকে আকর্ষণ করে জল আটকে দেয়। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন যে, অবশেষে সমগ্র পৃথিবীর জলচক্রের প্রমাণ দেখতে পাব আমরা। এর ফলে আমাদের বাসযোগ্য গ্রহ পৃথিবী পৃষ্ঠে ঠিক কত পরিমাণ জলের রয়েছে, বুঝতে পারব।বলা বাহুল্য, বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরেই এই হারিয়ে যাওয়া গভীর জলের সন্ধান করছেন। এই ভূগর্ভস্থ মহাসাগর শনাক্ত করতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সিসমোমিটারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল এবং ৫০০ টিরও বেশি ভূমিকম্প থেকে নির্গত তরঙ্গও পরীক্ষা করা হয়েছে। এই তরঙ্গগুলি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তরগুলি সহ এর মূল অংশের মধ্য দিয়ে যায়। এরপর এগুলি আর্দ্র শিলাগুলির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় হ্রাস অনুভব করে, যা একটি অত্যন্ত বড় জলাধারকে নির্দেশ করে। আর এভাবেই সমুদ্র আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা।পৃথিবীর নীচে পাওয়া এই সুবিশাল জলাধারের অস্তিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বলে ব্যখ্যা করে জ্যাকবসেন বলেছেন যে পৃথিবীর নীচে সমুদ্র না থাকলে পুরো পৃথিবী জলে ভরে যেত। তাই আমরা পৃথিবীতে শুধু উঁচু পাহাড়ের চূড়া দেখতে পাই, বাকি জমি থাকে জলের নীচে। এখন সারা বিশ্বের গবেষকরা সিসমিক ডেটা সংগ্রহ করতে করে, আরও জলের অনুসন্ধান করতে চাইছেন। যা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অজানাকে জানার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।