যুবতী বধূ অত্যন্ত টেক স্যাভি। রঙিন জীবন চেয়েছিলেন ওই যুবতী বধূ। তাই স্বামীর সঙ্গে মান𒊎সিক দূরত্ব তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে এক যুবকের সঙ্গে গড়ে ওঠে প্রণয়ের সম্পর্ক। তারপর নদীর ধারে হাতে হাত রেখে বসে সময় কাটানো থেকে শুরু করে একে অন্যের কাছাকাছি আসা সবই ঘটেছে। আর এই সম্পর্ককেই আরও ঘনিষ্ঠ এবং আবিষ্ট করে রাখতে স্বামী–সন্তান ছেড়ে চলে আসেন মায়ের কাছে। মালদার ෴হবিবপুরে। এরপর টুকটাক স্বামীর সঙ্গে কথা মোবাইল ফোনে হলেও পুনরায় সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তাই সকলকে অন্ধকারে রেখে কলকাতায় চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার মিথ্যে কথা বলে প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে যান দিঘায়। এবার সমুদ্রসৈকতের একটি হোটেল থেকে ওই যুবতী বধূর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর খুনের দাবি করেছে মৃতার পরিবার। আর দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে পরিবার।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবতী বধূর নাম চুমকি দাস (২৪)। বাড়ি মালদার হবিবপুর থানা এলাকায়। তাঁর বাবা কয়েক বছর আগে প্রয়াত হন। বাবা পাপ্পু দাসের মৃত্যুর পর মা বন্দনা দাস♋ পাঁচ বছর আগে নিজের চেষ্টায় বাড়ির একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেন পুরাতন মালদা পুরসভার বাসিন্দা তথা পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী যুবকের সঙ্গে। তাঁদের এক কন্যাসন্তান আছে। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছিল না। চুমকির মনে হতো তাঁর স্বামী অত্যন্ত সেকেলে। ক্লাব, পার্টি, আনন্দ–ফুর্তি জীবনে কিছুই নেই। তাই একবছর আগে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ইতি করে দিয়ে মায়ের কাছে হবিবপুরে ফিরে আসেন চুমকি। তারপরই গড়ে ওঠে প্রণয়।
আরও পড়ুন: ছেলে–বউমা দু’জনেই ভূগোলের শিক্ষক, দু’জনেরই চাকরি গিয়েছে, শুনে মৃত্যু মায়ের
স্থানীয় সূত্রে খবর, চুমকির স্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়। তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তর অশান্তি হয়েছিল। আর তাই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে হবিবপুরে বাপের বাড়িতে চলে আসেন চুমকি। তারপর বাপের বাড়িতে থেকেই স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করছিলেন চুমকি। সেই সূত্রেই সোমবার দুই পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে গাড়িতে করে দিঘায় যান চুমকি। তার দু’🌱দিন পর রাতে হোটেলের ঘর থেকে চুমকির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনা নিয়ে মৃতার মা বন্দনা দাস বলেন, ‘জামাইয়ের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক ভাল ছিল না। বহু চেষ্টা করে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়নি। কিন্তু জামাইয়ের বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠায় অশান্তি শুরু হয়। তখন মেয়ে আবার আমার কাছে ফিরে আসে।’
তারপর ঠিক কী ঘটল? এখানে এসেই চুটিয়ে চলতে থাকে প্রেম বলে অভিযোগ। অন্য রকম জীবনযাপন শুরু হয়। যদিও এগুলি চুমকির মা স্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্য, ‘ওরা যে দিঘায় ঘুরতে গিয়েছে সেটা আমি জানতাম না। আমাকে বলেছিল, একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে কলকাতায় যাচ্ছে। বুধবার রাতে দিঘা থানার পুলিশ আমাকে ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানায়। আমার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পিছনে মেয়ের ওই পুরুষ বন্ধু রয়েছে।’ পুলিশ সূত্রে খবর, দিঘার হোটেলে চুমকি তাঁর প্রেমিককে স্বামী পরিচয় দেয়। ওখানে তিনজন সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। শরীর খারাপ আছে বলে হোটেলে ছিলেন চুমকি। মালদার পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব জানান, মৃতার পরিবার নির্দিষ্ট🌜ভাবে লিখিত অভিযোগ জানালে তদন্ত করে দেখা হবে।