গুজরাট টাইটান্সেরജ জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে দরকার ছিল ২৭ রান। আমেদাবাদের মাঠে একবার শেষ ওভারে ২৯ রানও হয়েছিল। কোথাও একটা ক্ষীণ আশা ছিল গুজরাট টাইটান্সের। শেরফান রাদারফোর্ড এবং রাহুল তেওয়াটিয়া ক্রিজে ছিলেন। লড়াইটা মোটেও অসম্ভব ছিল না। বল করতে এসেছিলেন আর্শদীপ সিং।
𒀰কিন্তু প্রথম বলেই ধাক্কা খেয়ে যায় গুজরাট। ২০তম ওভারের প্রথম বলেই রান আউট হয়ে যান রাহুল তেওয়াটিয়া। পরিবর্তে ক্রিজে আসেন শাহরুখ খান। দ্বিতীয় বলে লম্বা ছক্কা হাঁকান রাদারফোর্ড। তৃতীয় বলে হয় ২ রান। এর পর চতুর্থ বলে শেরফান রাদারফোর্ডকেই বোল্ড করে দেন আর্শদীপ। আর তখনই গুজরাটের জয়ের আশা একেবারেই শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে ১১ রানে তারা ম্যাচটি হেরে বসে থাকে।
অভিষেকেই নজর কাড়েন প্রিয়াংশ
মঙ্গলবার ২০২৫ আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে এদিন পঞ্জাব কিংসকে𓄧 ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক শুভমন গিল। প্রভসিমরন সিংয়ের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন প্রিয়াংশ আর্যকে। এদিন আইপিএলে অভিষেক হয় ২৪ বছরের তরুণের। তবে পঞ্জাব শুরুতেই ধাক্কা খায়। তাদের ইনিংসের ৩.১ ওভারে প্রভসিমরন সিং মাত্র ৫ রান (৮ বলে) আউট হয়ে যান। তবে লড়াকু ইনিংস খেলেন আর এক ওপেনার প্রিয়াংশ। তিনি অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়েন। ২৩ বলে ৪৭ করেন প্রিয়াংশ। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি ছক্কা এবং সাতটি চার। মাত্র তিন রানের জন্য অভিষেক ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি মিস করেন দিল্লির তরুণ।
দুরন্ত খেলেও, সেঞ্চুরি মিস শ্রেয়সের
ꦍএদিকে তিনে নেমে শুরু থেকেই বড় শট খেলতে শুরু করেন শ্রেয়স। এদিন ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন পঞ্জাব অধিনায়ক। গুজরাটের কোনও বোলারকেই রেয়াদ করেননি তিনি। যার নিটফল, ৪২ বলে ৯৭ রান করে তিনি অপরাজিত থেকে যান। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৯টি ছক্কা এবং ৫টি চারে। এই ৯৭ রান আইপিএলে শ্রেয়সের সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০১৭ সালে গুজরাট লায়ন্সের বিরুদ্ধে তিনি ৯৬ রান করেছিলেন। এতদিন সেটাই ছিল শ্রেয়সের সর্বোচ্চ স্কোর।
﷽এদিন শ্রেয়স আইপিএলে তাঁর প্রথম শতরান করে ফেলতে পারতেন। কিন্তু সেটা সম্ভব হল না শুধুমাত্র শশাঙ্ক সিংয়ের কারণে। শেষ ওভারে শশাঙ্ক স্বার্থপরের মতো খেলেছেন। ১৯তম ওভারের শেষেই শ্রেয়সের সংগ্রহ ছিল ৯৭ রান। ২০তম ওভারে স্ট্রাইকে ছিলেন শশাঙ্ক। বল করতে এসেছিলেন মহম্মদ সিরাজ। প্রথম বলে সিরাজকে ৪ মারেন শশাঙ্ক। দ্বিতীয় বলে তিনি ২ রান নেন। এখানেই যদি এক রান নিতেন শশাঙ্ক, তবে শ্রেয়স শতরান পূরণ করার সুযোগ পেতেন। এর পরের বলগুলিতে একটি ওয়াইড ছাড়া, বাকি চারটিতে বাউন্ডারি হাঁকান শশাঙ্ক। হয় মোট ২৩ রান। কিন্তু শ্রেয়স সেঞ্চুরি করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন। এদিকে ভালো খেলেও ভিলেন হয়ে যান শশাঙ্ক। ২টি ছক্কা এবং ৬টি চারের হাত ধরে শশাঙ্ক ১৬ বলে ৪৪ রান করলেও ভিলেন হয়ে যান।
আমেদাবাদে সর্বোচ্চ এবং নিজেদের দলীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করল পঞ্জাব
🍬প্রিয়াংশ, শ্রেয়স এবং শশাঙ্ক ছাড়া পঞ্জাবের অন্যরা সেভাবে রান পাননি। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ১৬, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ০ এবং মার্কাস স্টইনিস ২০ রান করেন। তবে শ্রেয়সের লড়াইয়েই পঞ্জাব ২০০ রানের গণ্ডি পার করে যায়। তারা নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৩ রান করে। আইপিএলের ইতিহাসে এটি পঞ্জাবের নিজেদের দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে পঞ্জাব কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ইডেনে ২ উইকেটে ২৬২ রান করেছিল। সেটি তাদের আইপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল।
ꦛসেই সঙ্গে আমদাবাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়েই সর্বোচ্চ টি২০ রানের রেকর্ড করে পঞ্জাব। এই মাঠে আগের সর্বোচ্চ স্কোর করেছিল ভারত। তারা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রান করেছিল। পাশাপাশি গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধেও এদিন সর্বোচ্চ স্কোর করে পঞ্জাব। এর আগে ২০২৪ আইপিএলে দিল্লিতে গুজরাটের জলের বিরুদ্ধে দিল্লি ক্যাপিটালস ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান করেছিল।
🐭এদিন গুজরাটের সবচেয়ে সফল বোলার সাই কিশোর। ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া এক উইকেট করে নিয়েছেন কাগিসো রাবাডা এবং রশিদ খান।
রান তাড়া করতে নেমে আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে টাইটান্স
🦹পঞ্জাবের দেওয়া পাহাড় প্রমাণ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন গুজরাটের দুই ওপেনার সাই সুদর্শন এবং শুভমন গিল। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ছন্দপতন হয় জিটি-র। ৫.৫ ওভারে শুভমনকে ফেরান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১৪ বলে ৩৩ করে সাজঘরে ফেরেন টাইটান্স অধিনায়ক। এর পর জোশ বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালান সাই। দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ বলে বাটলার এবং সাই ঝোড়ো ৮৪ রান যোগ করেন। তবে ৪১ বলে ৭৪ করে সাই সাজঘরে ফিরলে, গুজরাট দ্বিতীয় ধাক্কাটা খায়। সাইয়ের ৭৪ রানের ইনিংসে হাফ ডজন ছক্কা এবং ৫টি চার ছিল। তবে সাই আউট হলেও বাটলার এবং রাদারফোর্ড মিলে লড়াই জারি রাখেন। ১৮তম ওভারের শেষ বলে বাটলারও আউট হয়ে যান। তাঁকে মার্কো জানসেন বোল্ড করেন। ২টি ছয় এবং চারটি চারের সৌজন্যে তিনি ৩৩ বলে ৫৪ করে সাজঘরে ফেরেন।
শেষরক্ষা হল না
꧒বাটলার আউট হওয়ার পর, রাদারফোর্ড, রাহুল তেওয়াটিয়াকে নিয়ে গুজরাটকে প্রায় জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দিচ্ছিলেন। কিন্তু ২০তম ওভারের প্রথম বলেই তেওয়াটিয়া (২ বলে ৬) রান আউট হয়ে যান। এর পর রাদারফোর্ড আউট হলে গুজরাটের জয়ের সব আশা শেষ হয়ে যায়। রাদারফোর্ড ২৮ বলে ৪৬ করে সাজঘরে ফেরেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার এবং চারটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৩২ রান করে গুজরাট টাইটান্স। এটি আইপিএলে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। তবে ১১ রানে ম্য়াচটি হেরে যায় শুভমন গিলের দল। পঞ্জাবের হয়ে আর্শদীপ সিং ২ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাক্সওয়েল এবং মার্কো জানসেন নিয়েছেন একটি করে উইকেট।