বয়স ৯১, দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি লম্বা, সুন্দর সাজানো ☂গোছানো মিউজিক কেরিয়ার তাঁর। যা হয়ত খুব কম মানুষের জীবনে হয়। সম্প্রতি সেবিষয়েই মুখ খুলেছেন কিংবদন্তী আশা ভোঁসলে।
আশা ভোঁসলের কথায়, ‘১০ বছর বয়সে আমি আমার সঙ্গীত জীবন শুরু করেছিলাম।’ সরস্বতী পুজো বা বসন্ত পঞ্চমী নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় গানের দুনিয়ার এই কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে বলেন, ‘আমি নৈপুণ্🧔যের সঙ্গে গান পরিবেশন করে ৮১ বছর পূর্ণ করেছি।’ কোন বিষয়টি তাঁকে অনুপ্রাণিত করে? একথা জিগ্গাসা করা হলে শিল্পী উত্তর দেন, ‘আমি পিছনে ফিরে তাকাই না, ভবিষ্যতের দিকেও তাকাই না। আমি বর্তমানকে নিয়ে বাঁচি আর জীবনের সেরাটা তুলে ধরি। আমিই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক একক শিল্পী হিসাবে স্টুডিও রেকর্ড করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছি। তবে প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করার পরেও আজও মাইকের মুখোমুখি দাঁড়ালে আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে আমি যদি এই গানে কোনও গণ্ডগোল করি তবে আমাকে দিয়ে আর কেউ গাওয়াবে না। আর এটাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।’
আজ সরস্বতী পুজো, তবে সারা বিশ্বের মানুষ, এমনকি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির মানুষরাও তাঁকে খোদ ‘মা সরস্বতী আশা তাই' বলে সম্বোধন করেন। যখন তাকে এভাবে সম্মান করা হয় তাঁর কেমন লাগে? উত্তরে শিল্পী বলেন ‘আমি অত্যন্ত লাজুক মানুষ। আর জনসমক্ষে আমার ব্যক্তিত্ব, আমার ব্য🍨ক্তিগত সত্তার থেকে আলাদা। আমি যখন প্রশংসা পাই, তখন আমি মেঝের দিকে তাকꦍিয়ে থাকি। কারণ আমি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব বুঝতে পারি না। তবে আমি এটুকু বলতে পারি যে আমি আজ যা কিছু হয়েছি সবই মা সরস্বতীর আশীর্বাদের। ওঁর আশীর্বাদ ছাড়া আমি কিছুই নই’।
পদ্মবিভূষণ প্রাপক আশা ভোঁসলের কথায়, ‘আমি প্রতিদিন মা সরস্বতীর কাছে প্রার্থনা করি। আর তাই আমি বছরের মাত্র নির্দিষ্ট একটি দিনকেই শুধু তাঁর দিন বলে মনে করি না। আমি নিজেকে ধন্য মনে🌄 করি যে মা স🤪রস্বতী হাসলেন, তবে চারুকলায় আমার দুর্বল প্রচেষ্টা দেখে ভ্রু কুচকালেন না। আমি মনে করি পৃথিবীতে আমার সৃজনশীল ৯১ বছর কেবল তাঁর কারণেই সম্ভব হয়েছে’।
আরও পড়ু🍎ন-🐲'গানের নামে ওঁরা আসলে ভেলপুরি বেচছেন…', সুনিধির পর রিয়েলিটি শো নিয়ে বিস্ফোরক কৈলাস খের
গত বছরের ডিসেম্বরে দুবাইয়ের এক কনসার্ট থেকে আশা ভোঁসলের গান গাওয়া এবং তাঁর হিট নম্বর তওবা তওবা (ব্যাড নিউজ; ২০২৪) গানের ভিডিও ভাইরাল হয়। যেটি কিনা সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল। কীভাবে এই ভাবনা এসেছಌিল সেবিষয়ে প্রবীণ এই শিল্পী বলেন, ‘যদি কিছু হয় তবে আমাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসাবে স্মরণ করা হবে যিনি অপ্রত্যাশিত কাজ করেছিলেন। আমি পারফরম্যান্সের নির্দিষ্ট একটা স্টাইলের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে রাখতে পারি না। আমি নতুন কিছু করতে এবং কখনও কখনও সীমানা ভাঙতেও পছন্দ করি। আর এটাই আমাকে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র শৈলী নিয়ে নান𒅌ান চেষ্টা করতে বাধ্য করেছে যা দেখে হয়ত বিশুদ্ধবাদীরা ভ্রু কুচকেছিলেন। সম্ভবত এই কারণেই আমাকে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বলেও উল্লেখ করা হয়।’
আজকালকার গান কি তিনি শোনেন? হিপ-হপ এবং পাঞ্জাবি পার্টি ব্যাঙ্গারের মতো গান শোনেন? ‘আমি আমার শুনতে এমন যেকোনও গানই শুনি। আমি পুরনো গান বা নতুন গানের মধ্যে পার্থক্য করি না। পার্থক্য শুধু ভালো মিউজিক আর�꧑� খারাপ মিউজিকের। বলাই বাহুল্য, আমার যা শুনতে ভালো লাগে সেটা আপনার জন্য খারাপও হতে পারে। এটা খুবই সাবজেক্টিভ। আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখনও প্রচুর ভুলে যাওয়ার মতো গান ছিল এবং প্রচুর ক্লাসিকক্যাল সংগীত ছিল যা এখনও আছে।’
আশা ভোঁসলের দিন এখন কীভাবে কাটে সেবিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে গায়িক বলেন, ‘আমার জীবন এখন কম পরিশ্রমী। এখন আর আমি এক স্টুডিও থেকে আরেক স্টুডিওতে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করি না। আমি﷽ আমার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দুর্দান্ত অবসর সময় ব্যয় করি। যখন আমার বাচ্চারা বড় হচ্ছিল, তখন তাঁদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ আমার ছিল না, তবে এখন আমার হাতে সময় আছে, তাই আমি আমার আগের ভুলটি সংশোধনের চেষ্টা করছি। অবশ্য আমি এখনও গান রেক🥃র্ড করি (আমার সদ্য প্রকাশিত গান সাইয়াঁ বীণা শুনি) এবং সিলেক্টিভ কনসার্ট করি যেখানে আমি তওবা তওবার সঙ্গেও পা মেলানোর সুযোগ পাই (হাসি)।’