টাকার অভাব মানুষকে কতকিছুই না করতে বাধ্য করতে পারে। এমনকী আর্থিক সমস্যার ঠেলা সামলাতে টয়লেটকেও ঘর বানাতে পারেন মানুষ। এমনটাই করে দেখিয়েছেন চিনের ১৮ বছর বয়সি এক তরুণী। নাম ইয়াং। ক্রমবর্ধম👍ান মুদ্রাস্ফীতি এবং বড় অঙ্কের বাড়ি ভাড়া এড়াতে একটি টয়লেট♔ ভাড়া করেন তিনি। এখন সেখানেই থাকেন, খান এবং ঘুমোন। একেবারে বাড়ির মতোই। প্রতি মাসে মাত্র ৫০০ টাকার মতো ভাড়া দিতে হয়।
জানা গিয়েছে, ইয়াং প্রতি মাসে মাত্র ৫ পাউন্ড💞 (প্রায় ৫৮৮ টাকা) ভাড়ায় এই টয়লেটটিকে ঘর হিসাবে ব্যবহার করছেন। চিনে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি তাঁকে এই অবস্থায় এনে ফেলেছে। তরুণী এই টয়লেটেই রান্না করেন, তাঁর দৈনন্দিন জীবন কাটান। নিজের এই অনন্য জীবনের কিছু ঝলক চিনের সোশ্যাল মিডিয়া🐈 প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেছেন তিনি। আর তা দেখেই হতবাক মানুষ।
মেয়েটির আয় হাজার হাজার টাকা
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ইয়াং ঝুঝুতে একটি আসবাবপত্রের দোকানে কাজ করেন যেখানে তিনি মাসিক বেতন পান ৩১,৭৭৬ টাকা (২,৭০ꦉ০ ইউয়ান) যা শহরের গড় ৮৮,২৬৬ টাকার (৭,৫০০ ইউয়ান) চেয়ে অনেক কম। স্থানীয় ভাড়া ৯,৪১৫ টাকা (৮০০ ইউয়ান) থেকে ২১,১৮৪ টাকা (১,৮০০ ইউয়ান) পর্য🐼ন্ত হওয়ায়, মিস ইয়াং সামলাতে পারছিলেন না। কঠিন পরিস্থিতিতে আটকে পড়ে, তিনি নিজের বসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মাত্র ৫৮৮ টাকা প্রতি মাসে ছয় বর্গমিটার আয়তনের অফিসের টয়লেটে থাকার জায়গা পেয়ে যান। তারপর থেকেই রয়েছেন এখানে।
এই তরুণীর আয়ের আরও একটি উৎস হল চিনের এক সোশ্যাল মিডিয়া। নিজের দৈনন্দিন জীবনের ভিডিয়ো তৈরি করে এই প্꧃ল্যাটফর্মে পোস্ট করে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করেন। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতি মাসে প্রায় ৩১৭ পাউন্ড (প্রায় ৩৪,৫৭০ টাকা) আয় করেন মেয়েটি। তার মধ্যে খরচ হয় মাত্র ৪২ পাউন্ড (প্রায় ৪,৫৮০ টাকা)। মজার বিষয় হল, এই টয়লেটটি দিনের বেলায় গ্রাহক এবং কর্মচারীরাও ব্যবহার করেন। কিন্তু মেয়েটির এতে কোনও সমস্যা হয় না। এইসময় নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখেন তিনি।
কিন্তু টয়লেটেই কেন থাকেন তরুণী
ইয়াꦯংয়ের দাবি এইভাবে তিনি অনেক টাকা সাশ্রয় করতে পারেন। কারণ চিনে বসবাসের জন্য ফ্ল্যাট এবং বাড়ির ভাড়া অনেক। তাই এক প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, মেয়েটি আয়ের বেশিরভাগ অংশ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চান, তাই এই ভাবেই এখন কাটাচ্ছেন দিন। ত🐠িনি ভবিষ্যতে একটি ভালো বাড়ি এবং গাড়ি কেনার জন্যই এখন এত স্ট্রাগেল করছেন।
ছোট্ট এই বাড়িতে নিজের জামাকাপড়, ভাঁজ করা বিছানা এবং অনꦗ্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সুসংগঠিতভাবে গুছিয়ে রেখেছেন তিনি। এখানেই এক দিকে কাপড় পরিষ্কার করেন এবং কাপড় শুকানোর জন্য বিল্ডিংয়ের ছাদে বিছিয়ে দেন। রান্নার জন্যও রয়েছে দারুণ ব্যবস্থা। টয়লেট এমনভাবে পরিষ্কার রাখেন, যাতে কোনও ময়লা বা দুর্গন্ধ না থাকে। সব মিলিয়ে ইংরেজিতে ইয়াংয়ের এই থাকার বন্দোবস্ত বলা যেতে পারে, টাইনি লিভিং।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা মিস ইয়াংয়ের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং অনেকেই তাঁর ক্লান্তিকর পরিস্থিতি থেকে সেরাটা বের করে আনার জন্য তার প্রশংসা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'আমি এমন নই যে কেউ তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁর সমালোচনা করব। আমি তরুণীর মঙ্গল কামনা করি।' অন্য একজন লিখেছেন, ‘তার পরিস্থিতির সর্বোত্তম ব্যবহার করা, খুবই প্রশংস𒉰নীয়।’