DONALD TRUMP, US TARIFF NEWS, FIVE INDIAN SECTORS WILL BE GREATLY SUFFERED, HIGHER-THAN-EXPECTED TARIFFS : যেমনটা ভয় ছিল, সেটাই হল! বরং, কিছু ক্ষেত্রে ধাক্কাটা আশঙ্কার থেকে কিছুটা বেশিই হল! এমনটা🐷ই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পূর্ব ঘোষণা অনুসারে,আমেরিকায় আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের বুধবারই (স্থানীয় সময় অনুসারে) মার্কিন প্রশাসনের নয়া শুল্কতালিকা বা ট্যারিফ ঘোষণা করলেন করলেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সেই ঘোষণা অনুসারে, ট্রাম্প সার্বিকভাবে ১০ শতাংশ বেসলাইন লেভি বা ন্যূনতম শুল্কহার ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা পর্বে পাক্কা ৫০ মিনিট ধরে বক্তৃতা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পর। সেখানে 'বন্ধু' ভারত সম্পর্কে কী বলেন তিনি? ভারতের জন্য ২৬ 'কিন্ডার' রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করেছেন তিনি। আমেরিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও ভারতকে পরবর্তীতে 'ট্যা💃রিফ কিং' (শুল্কের রাজা) এবং 'ট্যারিফ অ্যাবিউজার' (শুল্কে অপপ্রয়োগকারী)-এর মতো বিশেষণে ভূষিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ভারত সরকারি মর্কিন কৃষিজাত পণ্যের আমদানির উপর ১০০ শতাংশ শুল🙈্ক আরোপ করে। এইভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকার তাদের দেশে মার্কিন পণ্য আমদানির সময় উচ্চ শুল্ক আরোপ করায়, সেই সমস্ত দেশের বাজারে মার্কিন পণ্য়ের প্রবেশ 'ভার🦋্চুয়ালি অসম্ভব' হয়ে পড়ে। একইসঙ্গে, নয়াদিল্লির বাণিজ্য নীতিরও তুমুল সমালোচনা করেছে আমেরিকা। ভারতের 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগ, কৃষিজ শুল্ক এবং দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে সীমাবন্ধতা নিয়ে প্রবল সমালোচনা করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ থেকে ভারতের সবথেকে বড় বাণিজ্যিক সহয💦োগী হিসাবে যে দেশটি উঠে এসেছে, তার নামও আমেরিকা! ভারতের মো🔯ট রফতানির ১৮ শতাংশ, মোট আমদানির ৬.২২ শতাংশ এবং মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ১০.৭৩ শতাংশ আমেরিকার সঙ্গেই হয়।
কিন্তু, আমেরিকার এই নয়া শুল্ক আরোܫপের ফলে ভারতের উপর তার কী প্রভাব পড়ল বা পড়তে চলেছে, তা দে⛦খা নেওয়া যাক -
ভারতীয় বস্ত্র উৎপাদন ও পোশাক শিল্প:
নয়া মার্কিন শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের যে ক্ষেত্রগুলি সবথেকে বেশি ধাক্কা খাও✅য়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হল🎶 - ভারতীয় বস্ত্র উৎপাদন ও পোশাক শিল্প। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে ভারত আমেরিকায় যে পরিমাণ বস্ত্র ও পোশাক রফতানি করেছিল, তার আনুমানিক মূল্য ৯৬০ কোটি মার্কিন ডলার! যা এই ক্ষেত্রে ভারতের মোট রফতানির ২৮ শতাংশ।
কিন্তু, নয়া শুল্ক কার্যকর হওয়ার ফলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় বস্ত্র ও পোশাকের দাম একধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে যাবে। ফলে সেখ🐷ানে এর চাহিদা কমবে। এক্ষেত্রে বিরাট বিপদে পড়তে চলেছে ভারতের কার্পেট নির্মাণ শিল্প। কারণ, এত দিন বিদেশের বাজারে ভারত মোট যত পরিমাণ কার্পেট রফতানি করত, তার ৫৮ শতাংশই যেত মার্কিন মুলুকে।
ভারতীয় ওষুধ:
গত বছরও - অর্থাৎ - ২০২৪ সালেও ভারতে তৈরি হওয়া ওষুধ আমেরিকার বাজারে রফতানি করার আর্থিক 🌠মূল্য ছিল প্রায় ১২,৭০০ কোটি মার্কিন ডলার! কিন্তু, নয়া ট্যারিফ আমেরিকার বাজারে এতদিনের সস্তা ভারতীয় ওষুধকে অনেক বেশি দামি করে দেবে। ফলত, আমেরিকায় ভারতীয় ওষুধের চাহিদা🐲 ও বিক্রি কমবে।
ভারতীয় কৃষিপণ্য ও আমিষ খাদ্যপণ্য:
আন্তর্জাতিক 'থিঙ্ক ট্যাঙ্ক' ✅- 'গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ' (জিটিআরআই) বলছে, ট্রাম্পের ট্যারিফ গুঁতোয় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের কৃষিপণ্যের বাজার এবং আমিষ খাদ্যপণ্য়ের রফতানি বাণিজ্য।
শুধুমাত্র ২০২৪ ꦕসালেই আমেরিকায় ২৫৮ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের মাছ, মাংস প্যাকেটবন্দি আমিষ খাবার পাঠিয়েছিল ভারত। এখন সেই ক্ষেত্রের উপরেই ২৭.৮♛৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এখানে উল্লেখ্য হল, ভারতে যে পরিমাণ কুঁচো বা ছোট আকারের 𒆙চিংড়ি ও অন্য়ান্য মাছ উৎপাদন করা হয়, তার সবথেকে বড় খরিদ্দার হল আমেরিকা। কিন্তু, 💖নয়া ট্যারিফের ফলে আমেরিকার বাজারে সেই ভারতীয় মাছের দাম বাড়বে হু হু করে। তুলনায় অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা মাছ সস্তা হবে। ফলত, মার্কিনিরা খুব স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় মাছ, মাংস কিনবেন না। এর জেরে আখেরে ক্ষতি হবে ভারতীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদেরই।
ভারতীয় মদ, মাংস ও চিনি:
সবথেকে বেশি শুল্ক চাপানো হয়েছে মদের উ♏পর। যার পরিমাণ - ১২২.১০ শতাংশ! ওয়াইন এবং স্পিরিট এর আওতায় আসবে। তবে, ভারত আমেরিকায় মদ রফতানি তুলনামূলক কমই করে। যার আর্থিক মূল্෴য মাত্র ১,৯২,০০,০০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।
অন্যদিকে, ভারতীয় দুগ্ধজাত পণ্যের উপর ৩৮.২৩ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভারত থেকে দুগ্ধজাত পণ্য𒆙 রফতানির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৯ কোটি ডলার। কিন্তু, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ভারতীয় দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার মার্কিল মুলুকে দামবৃদ্ধির জন্য মারাত্মক সঙ্কুচিত হবে। আশঙ্কার এই কথা সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর কাছে স্বীকারও করেছেন জিটিআরআই-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব।
ভারতীয় জুতো:
ভারত থেকে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ চটি, জুতো প্রভৃতি আমেরিকার রফতানি করা হয়। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৪৬ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু, এই ক্ষেত্রেও ট্যারিফ চাপানো হয়েছে ১৫.৫৬ শতাংশ। ফলত, ভারতীয় চটি, জুতোর বদলে এবার আমেরিকার অধিবাসীরা অন্💯য়ান্য দেশের পণ্যই অধিক কিনবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।