কী খাচ্ছি থেকে কোথায় যাচ্ছি, কোন ব্রান্ডের জামাকাপড় কিনছে⛦, সবটা ইনস্ট্রা🌟গ্রামের পোস্ট করার যোগ্য তো? এই নিয়েই এখনও মেতে বেশিরভাগ মানুষ। আর এই লোকদেখানো জীবনের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের সহজ সাবলীল ছন্দ। কিন্তু সব সময় ছক ভাঙাতে বিশ্বাসী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এবারও সেই ছক ভাঙার নেশায় মত্ত। তাই নিজের স্ট্রাইল স্টেটমেন্টের পরোয়া না করে একেবারে ঘরোয়া লুকে নিজেকে মেলে ধরলেন। মাথায় তেল মেখে সমাজমাধ্যমের পাতায় ছবি দিয়ে মেয়ের ও তাঁর মাথায় 'তেলমাখা' সেই সুন্দর ছোটবেলাকে ফের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলে।
এই নিয়ে বলতে গিয়ে ꧑তিনি সমাজমাধ্যমের পাতায় তাঁর ও তাঁর মেয়ের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে স্মৃতির ঝাঁপি উপুড় করে লিখলেন, ‘মানি যখন পুট্টাপার্থীতে হোস্টেল⭕ে পড়ত, সপ্তাহে দু’দিন ওদের ওয়েল পুট ডে ছিল। ফোনে বলত, মা আজকে আমার ওয়েল পুট হয়েছে। আর ওয়ার্ডেন আন্টি বলেছেন জ্যাসমিন অয়েল না দিতে কারন তাতে করে মাথায় উকুন হতে পারে, তাই শুধু কোকোনাট অয়েল। মানি কে যখন দেখতে যেতাম, দুটো লম্বা সুন্দর বিনুনি ঝুলিয়ে আসত, মাথায় নারকেল তেল দিয়ে পরিপাটি করে বাঁধা।'
আরও পড়ুন: সায়ন্ত অতীত, দেবচন্দ্রিমা-কিরণের বন্ধুত্ব এখন বেশ গভ🌌ীর, মাঝরাতে কী করলেন ২ নায়িꦓকা
তারপরই মেয়ের ছোটব⭕েলার সেই ছবি মনে করতে করতে এক দৌড়ে নিজের ছেলেবেলায় চলে যান নায়িকা। তিনি লেখেন, ‘আমিও ছোটবেলায🐼় এবং বড়বেলায় যতদিন লম্বা চুল ছিল, মাথায় তেল লাগিয়ে সর্বত্র গিয়েছি। সময়ের সঙ্গে কখন যে চুলে তেল মাখা বা তেলা মাথায় বাড়ি থেকে বেরোনোটা গাইয়া ব্যাপার হয়ে গেল বুঝলাম না।’
তারপর তাঁর মা-মাসিদের সাজের সঙ্গে বর্তমান সাজের তুলনা টেনে লেখেন, ‘মা মাসিরা তো সারা🧸জীবন চুলে তেল দিয়ে অফিস, সংসার, বাজার, বেড়াতে যাওয়া সবই করল। আজকাল সবাই পার্লার এ গিয়ে অয়েল ম্যাসাজ নিয়েই শ্যাম্পু করে ফেলে। বাড়ি তে তেল মাখা🐻র পাঠ চুকে গিয়েছে। পুরো জীবনটাই কেমন শুধু ইনস্টাগ্রামে দেওয়া যাবে তো - তাহলেই হল মার্কা হয়ে গিয়েছে।’
কিছুদিন আগে কাজের সূত্রে পন্ডিচেরি গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। আর সেখানেই নিজের ও মেয়ের সেই নির্দ্বিধায় একরাশ তেলঢেলে বিনুনি করা মেয়েবেলাকে ফের চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠতে দেখেছেন। তিনি লেখেন, ‘রিসেন্টলি একটা কাজে পন্ডিচেরি গেছিলাম। ওরা এখনও কেমন নিজেদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কে ধরে রেখেছে। সব করছে, বাড়িতে বাꦚইরে কাজ, পড়াশোনা, আনন্দ হুল্লোর কিন্তু স্বাভাবিকতা রেখে। আমরা দিনে দিনে কেমন যেন একটা হয়ে যাচ্ছি আর এই শুধু লোক দেখানোর জন্য বেঁচে থাকা খুবই ক্লান্তিকর।’
আরও পড়ুন: 'এখন ♏বুঝতে পারছি…', নন্দিতা-শিবপ্রসাদের 'রক্তবীজ ২’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অঙ্কুশ
তাই সেই ক্লান্তিকে ঝেড়ে ফেলে নিজের জীবনের সহজতা ফিরে পেতে ফের ছোটবেলার মতো করেই তেল মেখে বাড়ি ফিরেছেন নায়িকা। তাতে তাঁর নায়িকা সুলভ সৌন্দর্যে একফোঁটাও চিড় ধরেনি। তাঁর কথায়, ‘সেদিন পন্ডিতে কাজ শেষে একটা আয়ুর্বেদিক জায়গায় গিয়ে খুব করে তেল মাখলাম। হলুদও মাখলাম। দোকানের মেয়েটি আমায় বারবার বলল ম্যাম শ্যাম্পু করে নেবেন? ভাবলাম না করব না। মাথায় তেল থাকুক। এরম করেই প্লেন ধরে ফিরব। তাতে আমার স্টাইল স্ꦉটেটমেন্ট কতটা নষ্ট হয় দেখি। লোকে আমার দিকে- ‘আমি অন্য গ্রহ থেকে এসেছি’ মার্কা দেখছে কিনা তাও দেখি। পরের দিন হোটেল থেকে বেরোনোর সময় স্নান করে রেডি হচ্ছি, মানির সেই অয়েল পুট এর কথা মনে পরে গেল।'
তিনি আরও লেখেন, ‘আসলে এসবে কিছুই হয়না। তেল, শ্যাম্পু, মেকআপ, ব্র্যানডেড জামাকাপড় সব আরম্ভর মাত্র। আমরা নিজেরাই নিজেদের নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকি। কে কোথায় কী পোস্ট করে ফেলল আর আমার করা হল না, ব্যাস ওই টা করে ফেলার জন্য দে দৌড় এই করছ🌟ি আমরা। অন্তঃসার শূন্য হয়ে খালি বৈভব প্রকাশ করার কম্পিটিশন…। যাগগে, দিব্যি লোক সমাজে ঘুরে বেড়িয়ে, অটো লাইন এ দাড়িয়ে মাথায় এক গাড়ি তেল নিয়ে দেশের ꦇএক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে চলে এলাম। ইনস্টাগ্রামে ছবিও দিলাম। কিস্যু হল না। আমি যে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ছিলাম, তাই রইলাম। তেল মাথায় থাকলে যে দারুণ খোপা টা হয় সেটা বিশ্বের সবচেয়ে দামি জেল দিয়ে হয়না।’
শেষে ﷺতিনি সব মেয়েদের নিজের মতো করে প্রাণ খুলে জীবনকে উপভোগ করার উপদেশো দেন। তিনি লেখেন, ‘এবার থেকে যখন ইচ্ছে হবে OIL PUT and DO খোঁপা or বিনুনি and do whatever you want to do woman.’