মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ইস্যুতেও ভোররাতে প্রস্তাব পেশ ও পাশ করাল কেন্দ্রীয় সরকার! মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল, ২০২৫) ভোর রাত ২টো নাগাদ একটি 'বিধিবদ্ধ প্রস্তাব' পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তারপর এই প্রস্তাব নিয়ে ওই সময়েই প্রায় ৪০ মিনিট ধরে আলোচনা হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ🍷্রেস সাংসদ সায়নী ঘোষ-সহ বিরোধী শিবিরের মোট আটজন সাংসদ বক্তব্য রাখেন। তারপর প্রায় ফাঁকা সংসদে (অধিকাংশ বিরোধী সাংসদের অনুপস্থিতিতে) সেই প্রস্তাবও পাশ করিয়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। যা অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলেই দাবি করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এই প্রস্তাব প্রসঙ্গে বক্তব্য পেশ করতে উঠে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, তাঁদের দল - অর্থাৎ - জাতীয় কংগ্রেস বিধ্বস্ত মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত সমর্থন করছে। কিন্তু, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল - মণিপুরের 'শান্তি ও সুস্থতা ফেরানো'। শশী বলেন, 'মণিপুরে যাঁদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার কথা ছিল, তাঁরা তাঁদের💖 দায়িত্ব পালন করেননি। প্রায় দু'বছর ধরে কোনও জরুরি পদক্ষেপ করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী যখন তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন, তারপরই পদক্ষেপ করা হল। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই একটি অনাস্থা প্রস্তুত করে রেখেছিল। সরকার পক্ষ জানত যে তারা অনাস্থায় হেরে যাবে। সেই কারণেই তারা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে।'
শশীᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚᩚ𒀱ᩚᩚᩚ থারুর আরও বলেন, 'মণিপুরের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজ্যে আইনের শাসন বলবৎ করা যায়নি। আমরা চাই, এই রাষ্ট্রপতি শাসনকে রাজ্যটিকে ফের স্বাভাবিক ও সুস্থ করে তোলার জন্য ব্যবহার করা হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জরুরি ছিল। কিন্তু, এটুকুই যথেষ্ট নয়।'
অন্যদিকে, মণিপুর ইস্যুতে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন সায়নী ঘোষ। তিনি বলেন, 'মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত💙েই কেন্দ্রীয় সরকারের ২২ মাস সময় লেগে গেল!' তাঁর প্রশ্ন, মণিপুরে যখন আমজনতার প💞্রাণ যাচ্ছিল, তখন কেন্দ্রের সরকার কী করছিল?
সরাসরি সরকারের উদ্দেশে সায়নী বলেন, মণিপুরে 'যখন হাজার হাজার প্রাণহানি ঘটছিল, সম্পদহানি হচ্ছিল, চারিদিকে আগুন জ্বলছিল, মহিলাদের বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোর⛎ানো হচ্ছিল। সারা পৃথিবীতে মণিপুর নিয়ে চর্চা ও নিন্দা হচ্ছিল। তখন আপানার🍌া কোথায় ছিলেন?'
সায়নীর অভিযোগ, মণিপুরে যেভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে সময় লাগানো হয়েছে, তা থেকেই স্পষ্ট, মণিপুর সমস্যা মেটানোর ইচ্ছ♔া বা ক্ষমতা - কোনওটাই কেন্দ্রীয় সরকারের ছিল না।
যদিও বিরোধীদের যাবতীয় সমালোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, গত চারমাস ধরে মণিপুরে বড় কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। তাঁর কথায়, 'রাষ্ট্রপতি শাসন ꦏঘোষিত হওয়ার মাত্র দু'মাসের মাথায় আমরা এই প্রস্তাব পেশ করলাম। দয়া করে সকলে একত্রিত হয়ে এই উদ্যোগকে সমর্থন করুন। যাতে মণিপুরে শান্তি ফেরানো সম্ভব হয়। মণিপুরে শাস্তি ও স্থিতি ফেরাতে সরকার সবরকমভাবে চেষ্টা করছে।'