✃ ৩৫ বছরের এক বিজেপিকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কাঠগড়ায় স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রাথমিকভাবে দাবি করা হচ্ছে, ওই যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন এবং তাঁকে এই চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য করেছেন এলাকারই একাধিক প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল, ২০২৫) এই ঘটনা ঘটেছে বেঙ্গালুরুর নাগাওয়াড়া এলাকায়।
✅পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ওই যুবকের নাম বিনয় সোমাইয়া। অফিসের ভিতর তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এবং সেইসঙ্গে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, বিনয় সোমাইয়া নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন। যার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্য়া এফআইআর করা হয়। দাবি আরও করা হচ্ছে যে নিহত যুবক বিজেপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি তাঁর মৃত্যুর জন্য সরাসরি স্থানীয় কংগ্রেস নেতা তেন্নিরা মাহিনা, কংগ্রেস বিধায়ক এএস পোন্নান্না ও তাঁদের সাঙ্গোপাঙ্গোদের দায়ী করে গিয়েছেন।
🃏ঘটনা প্রসঙ্গে সামনে এসেছে, বিনয় কর্ণাটকের কোডাগু জেলার বাসিন্দা ছিলেন। এবং 'কোডাগিনা সামাস্যেগালু' নামে একটি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিনও ছিলেন।
🦹জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ থেকে একটি বিতর্কিত পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই পোস্টটি করা হয়েছিল - কংগ্রেস বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার আইনি উপদেষ্টা এএস পোন্নান্না সম্পর্কে। সেই পোস্টে এএস পোন্নান্নার একটি এডিট করা ছবি ছিল। সঙ্গে ছিল একটি শৌচালয়ের ছবি। এবং তাতে বিধায়ক সম্পর্কে অনেক অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছিল।
🧔এই পোস্ট সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানোর কারণে প্রথম যে ব্যক্তি এই পোস্ট হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে করেছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে এবং বিনয়-সহ সংশ্লিষ্ট হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপের সমস্ত অ্যাডমিনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় ৩ নম্বরে নাম ছিল বিনয়ের। এবং সেই ঘটনায় পরে তিনি জামিনও পেয়ে যান। যদিও বিনয়ের অভিযোগ ছিল, আদালতে জামিন পাওয়ার পরও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁকে লাগাতার হেনস্থা করে যাচ্ছিল।
♉বিনয় তাঁর সুইসাইড নোটে লেখেন, 'গত দু'মাস ধরে আমি কিছুতেই আমার মন সংযত করতে পারছি না। একজন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে একটি মেসেজ পোস্ট করেছিলেন। আমি সেই গ্রুপের একজন অ্যাডমিন। পাঁচদিন আগেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করে আমাকে পাকড়াও করা হয়। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এফআইআর করা হয়। এবং আমার গায়ে সমাজবিরোধী তকমা সেঁটে দেওয়া হয়। তেন্নিরা মাহিনা নিজের রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে আমার জীবন নিয়ে খেলা করেছেন। আমার মৃত্যুর জন্য সরাসরি তিনিই দায়ী।'
🏅সুইসাইড নোটের একেবারে শেষে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন বিনয়। যাতে তাঁর অবর্তমানে দলের পক্ষ থেকে তাঁর মা, স্ত্রী ও মেয়ের দেখভাল করা হয়।
🐷ইতিমধ্য়েই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর এই ঘটনায় ডিসিপি পদমর্যাদার অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।