কিছু ভিডিয়ো! যেগুলির দৃশ্যাবলী বর্ণানা করা হয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। সেই বর্ণনা য𝐆ে কোনও সুস্থ, স্বাভাবিক, সভ্য ও শিক্ষিত নাগরিকের হ༺ৃদয় কাঁপিয়ে দেবে। লজ্জা, ঘৃণায় মাথা হেঁট হয়ে যাবে তথাকথিত আধুনিক ও সংস্কৃতিবান সমাজের!
কী দেখা গিয়েছে সেই ভিডিয়োয়? সেই ভিডিয়োয় কোনও এক 'প্রথা' পালনের কিছু ℱদৃশ্য রয়েছে। সেই দৃশ্যের বিস্তারিত বিবরণ এক্ষেত্রে উহ্য রাখা হচ্ছে। তবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুসারে - প্র🔯থা পালনের নামে হতদরিদ্র পরিবারের তরুণীদের চরম হেনস্থা ও অপমানের দৃশ্য়াবলী রেকর্ড করা হয়েছে সেই ভিডিয়োয়!
এই ঘটনা উত্ত♏রপ্রদেশের সম্ভলের। সূত্রের দাবি, 'মিডিয়া' নামে কোনও একটি শক্তিশালী গ্যাং এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। তারা মূলত তথাকথিত তন্ত্র সাধনার নামে গরিব ঘরের কুমারী মেয়েদের নিশানা করত। সেই মেয়েদের মাদক খাইয়ে, প্রায় অচেতন অবস্থায়, তাদের সঙ্গে এমন সব অপরাধ ঘটানো হত, যা কোনও সভ্য সমাজের অংশ হতে পারে না বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, যে প্রথার কথা এখানে বলা হচ্ছে, তার পোশাকি নাম - 'ক্রিয়া'। এবং সেই ক্রিয়া পালন করলেই নাকি 'ধনবর্ষা' - অর্থাৎ - টাকার বৃষ্টি হবে! যারা এ🀅ই অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল, তারা সব স্বঘোষিত 'গুরু' বা 'কারিয়াগর'। সূত্রের দাবি, টাকার আশায় কিছু 'মানুষ'ই নাকি ওই গ্যাংকে দিয়ে এই কুকীর্তি করাত!
অবশেষে এই কুকীর্তি𝓡 পুলিশের নজরে আসে এবং শুক্রবার (২🥂৮ মার্চ, ২০২৫) এই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার সরে সম্ভল পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ধনলাভের আশায় এই নোংরা প্রথা পালনের জন্য রীতিমতো একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল।
এই গ্যাংয়েরই চার সদস্য নিজেদের 'গুরু' বলে পরিচয় দিত। এদের মধ্য়ে ৪৫ বছরের রঘুবীর সিং একজন সরকারি কর্মচারী। সে আগরার যমܫুনা ব্রিজ রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার। এছাড়াও পাপ্পু লাল এবং রাঘবেন্দ্র দয়াল নামে দুই ব্যক্তিও নিজেদের 'গুরু' বলে দাবি করত। এই তিনজনই আগরার বাসিন্দা। চার নম্♉বর 'গুরু' হল - সনু সিং। তার বাড়ি ফিরোজাবাদে।
এছাড়াও, বাকিরা হল - আগরার বাসিন্দা ডি এন ত্রিপাঠী। যে কিনা আবার একজন জ𝓡্যোতিষীও! আগরারই বাসিন্দা - একটি আয়ুর্বেদিক দোকানের মালিক সঞ্জয় চৌহ🔯ানও এই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেইসঙ্গে, এতাহ এলাকায় ওষুধের দোকান চালানো সন্তোষ সিংও এই কুকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ।
সম্ভলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুকৃতি শর্মা জানিয়েছেন, 'অভিযুক্তদের মোবাইলে কয়েকশো ভিডিয়ো ও ছবি পাও🧸য়া গিয়েছে। যা আদতে সমস্ত আক্রান্তের একটা তথ্যভাণ্ডার বলা যায়। তাতে 𝐆১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণ ও তরুণীদের দেখা গিয়েছে। তাঁরা একটি প্ল্যাকার্ড হাতে ধরে রয়েছেন। যাতে তাঁদের নাম, বয়স, ওজন, শরীরের মাপ, এমনকী - মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের শেষ তারিখ পর্যন্ত লেখা রয়েছে! এছাড়াও, ওই মোবাইল পাচার হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী - যেমন - পেঁচা, কচ্ছপ প্রভৃতির ছবিও আছে। সেগুলি মূলত প্রথা পালনের নামে বলি দেওয়া হত!'
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, এই প্রথার জন্য যে মেয়েদের বাছা হত, তাদের ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি হতেই হত! দাবি করা হত, মেয়েটি যত সুন্দর হবে, ততই নাকি 🦩বেশি ধনবর্ষা হবে। এবং এক্ষেত্রে সেই মেয়েটির অতীতে কোনও প্রেমের সম্পর্ক থাকা বা যৌন সম্পর্ক থাকা চলবে না!
এইভাবে যখন কোনও তরুণীকে নিশানা করা হত। তারপর সেই মেয়েটি চরম নিগ্রহ ও যৌন হেনস্থা শিকার হত। বিষয়টি নিꦯয়ে যাতে কোনও প্রচার না হয়, তার জন্য কেবলমা꧙ত্র গরিব ঘরের মেয়েদেরই নিশানা করা হত।
সবথেকে দুর্ভাগ্যের বিষꦕয় হল, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আক্রান্ত তরুণীর পরিবারের সদস্যরাই তাঁদের এই গ্যাংয়ের হাতে তুলে দিত ধনলাভের আশায়!
পুলিশের জেরার মুখে এতাহর বাসিন্দা এক ব্যক্তি জানিয়েছে, সে🔥 তার ২০ বছরের মেয়েকে দিয়ে তিনবার প্রথা পালন করি𒁏য়েছে। তারপরও ঘরে টাকা আসেনি!
আর সেই হতভাগ্য় তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁকে এ🔯কটি ঘরে নিয়ে গিয়ে 'গুরু'দের মাঝখানে বসতে বলা হয় এবং 'প্রসাদ' খেয়ে চোখ বন্ধ করতে বলা হয়। ওই তরুণী সেটাই করেন। কিন্তু, তারপর তღাঁর আর কিছু মনে নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ মার্চ এক যুবকের জন্যই এই চক্রের খবর তারা জানতে পারে। রাজ পাল নামে ওই যুবক সম্ভলের ধনারি থানায় অভিযোগ জানান, তাঁর দুই প্রতিবেশী - লক্ষ্মণ সিং এবং রিঙ্কু তাঁকে আগরা ধরে নিয়ে গিয়ে বন্দি করে রেখেছিল। রাজ জানান, তাঁকে বলি দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনি কোনও মতে প্রাণ বাঁচিয়ে প🙈ালাতে সক্ষম হন। এরপরই ওই গ্যাংয়ের সমস্ত কুকীর্তি সামনে আসে।