ꦅ Eden Gardens pitch controversy: আইপিএল ২০২৫-এ ঘরের মাঠে মাত্র একটা ম্যাচ খেলেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার মাঝেই ইডেন গার্ডেন্সের পিচ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরাট কোহলিদের বিরুদ্ধে মরশুমের উদ্বোধনী ম্যাচে পরাজয়ের পর কেকেআর-এর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে বলেছিলেন ইডেনে যদি ঘূর্ণি উইকেট পাওয়া যায়, তবে ভালো হয়। তবে তারা কোনও অভিযোগ করেননি। তারই জবাবে ইডেন গার্ডেন্সের পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় সে দিন রাতেই ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে জানান, পিচের চরিত্র বদলানো সম্ভব নয়। ইডেনের পিচ বহু বছর ধরেই গতিময়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এটি শ্রেষ্ঠ পিচের পুরস্কার পেয়েছে। সেই পিচকে রাতারাতি চরম স্পিন সহায়ক বানানো কীভাবে সম্ভব?
𝔍আসলে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন দু’জন আইপিএল ধারাভাষ্যকার—হর্ষ ভোগলে এবং সাইমন ডুল। দ্বিতীয়জন আবার নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার। ইডেন কিউরেটরের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর হর্ষ ভোগলে বলেন, যদি তিনি কেকেআরের অংশ হতেন, তবে সুজনের বক্তব্যে হতাশ হতেন। তিনি বলেন, ‘রাহানে ১২০ রানের পিচ চাননি। তিনি এমন একটি পিচ চেয়েছেন, যেখানে বোলারদের জন্য কিছু সুবিধা থাকবে।’ সাইমন ডুল আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, ‘যদি কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টেডিয়ামের ভাড়া দেয়, তবুও যদি নিজেদের পছন্দের উইকেট না পায়, তবে তাদের অন্য কোথাও নিজেদের ঘরের মাঠ নির্বাচন করা উচিত।’
আরও পড়ুন … 𒁃শামি-কামিন্স-জাম্পাদের আত্মবিশ্বাসকে হত্যা করছে SRH? ভনের যুক্তি, শুরু নতুন বিতর্ক
🌠সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি সাইমন ডুলকে চিনি না। তিনি কী বলেছেন, তা না জেনে কিছু বলব না।’ গতবারও ইডেনের পিচ একই রকম ছিল। তবু কেকেআর সেখানেই খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তাহলে এবার একটা ম্যাচ দেখেই এত বিতর্ক কেন? তাছাড়া, রাহানে একবারও বলেননি যে, ইডেনের পিচে তারা অখুশি। তিনি শুধু বলেছেন, বল ঘুরলে ভালো। সেটাও তো হচ্ছে! আরসিবির বিরুদ্ধে ম্যাচেই ক্রুণাল পান্ডিয়া বাঁ-হাতি স্পিনে তিনটি উইকেট নিয়েছেন। সুয়াশ শর্মা দুর্দান্ত গুগলিতে আন্দ্রে রাসেলকে বোল্ড করেছেন।
আরও পড়ুন … ▨আমি ভীষণ রেগে আছি… বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ড্র করায় বিশাল-সুনীলদের উপর ক্ষোভে ফুঁসছেন মানোলো মার্কুয়েজ
🍰ইডেনের পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে শোনা যাচ্ছে, রাহানেদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৩ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কেকেআর ম্যাচের জন্য পিচ কিছুটা স্পিন সহায়ক করার চেষ্টা করা হবে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের অনেকে বলছেন, তার মানে এই নয় যে ইডেন রাতারাতি চিপকের মতো হয়ে যাবে। কারণ, তা করতে গেলে পিচের চরিত্র সম্পূর্ণ পাল্টাতে হবে, যা অসম্ভব। অতিরিক্ত ঘূর্ণি আনতে গেলে পিচ আন্ডার-প্রিপেয়ার্ড হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কেকেআর যদি ৮০ রানে অলআউট হয়ে যায়, তখন তার দায় কে নেবে?
🎐অনেকে এটাও বলছেন, প্রতিটি দল পিচের চরিত্র বুঝেই নিলামে খেলোয়াড় কেনে। যেমন চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) প্রচুর দামী পেসার না কিনে স্পিনার দলে ভেড়ায়, কারণ তারা জানে চিপকের উইকেটে বল ঘুরবে। কেকেআরও চাইলে তাই করতে পারত। কেউ তাদের বাধ্য করেনি মিচেল স্টার্ককে কিনতে। তাছাড়া, বছরে মাত্র দু’মাস আইপিএল হয়। তার জন্য পিচের মৌলিক চরিত্র পাল্টানো কি আদৌ সম্ভব? আর সম্ভব হলেও, কেনই বা তা করা হবে? যেখানে ইডেন শ্রেষ্ঠ পিচের জন্য ভারতীয় বোর্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন সকলেই ইডেনের পিচের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।