দীর্ঘ বিতর্কের পর বুধবার রাতে লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ হয়ে গিয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। এবার রাজ্যসভায় সংশোধিত ওয়াকফ বিল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিলটি সংসদের উচ্চকক্ষে পেশ করেছেন। বিতর্কের পরে বিরোধীরা ডিভিশন চাইলে লোকসভার মতোই রাজ্যসভাতেও ভোটাভুটির মুখোমুখি হতে হবে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। এই আবꦫহে ওয়াকফ সংশোধনী বিল খারিজের আর্জিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে তಞামিলনাড়ুর এমকে স্ট্যালিন সরকার।
আরও পড়ুন-RBI Deputy Governor: আꦆরবিআই-র নতুন ড🥀েপুটি গভর্নরের নাম ঘোষণা! কে এই পুনম গুপ্ত
কিরেন রিজিজু বলেন, 'ওয়াকফ বোর্ড শুধুমাত্র নজরদারি রাখবে, ওয়াকফ সম্পত্তির উপর কর্তৃত্ব ফলাবে না। আমি কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলির কাছে এই বিলকে সমর্থনের দাবি জানাচ্ছি। রাজ্যসভা সদস্যদের তিনি জানান, আজ পর🥃্যন্ত ৮.৭২ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, '২০০৬ সালে সাচার কমিটির অনুমান হিসেবে ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল ১২,০০০ কোটি টাকা। তাহলে আপনারা সহজেই অনুমান করতে পারেন যে, আজকের দিনে সেই আয় কতয় গিয়ে ঠেকবে? এই বিল কারও ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানবে না।'
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন জানিয়েছেন, তাঁর সরকার ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি খারিজ করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করবে। স্ট্যালিনের কথায়, বিলটি অস𝐆াংবিধানিক। সরকার সাংবিধানিক রীতিনীতি অগ্রাহ্য করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিলটি পাশ করিয়ে দেশে বিভাজন উসকে দিয়েছে। তামিলনাড়ু সরকার দু’দিন আগে বিধানসভায় ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাশ করিয়েছে। তাতে বলা হয়, ওয়াকফ আইন সংশোধন করে বিজেপি সরকার সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় পরিসরে হস্তক্ষেপ করছে। নয়া আইনটিকে ডিএমকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র সঙ্গে তুলনা করেছে। বলেছে এটি বিভাজনের আইন। লোকসভায় ওয়াকফ বিল নিয়ে আলোচনার সময় ডিএমকে সাংসদেরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে ছিলেন। স্ট্যালিন জানিয়েছেন, শীর্ষ আদালতে তাঁর সরকারের তরফে আর্জি জানানো হবে যাতে ওয়াকফ আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা হয়।
আরও পড়ুন-RBI Deputy 🍒Governor: আরবিআই-র নতুন ডেপুট🌺ি গভর্নরের নাম ঘোষণা! কে এই পুনম গুপ্ত
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে🐻 স্ট্যালিন এবং তাঁর দল ডিএমকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। একাধꩵিক ইস্যুতে দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। এই আবহে সংশোধিত ওয়াকফ বিল নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজ্যসভায় বিজেপির ৯৮ জন, জেডিইউ-এর চার জন, অজিত পাওয়ারের এনসিপির তিন জন এবং টিডিপির দু’জন সাংসদ রয়েছেন। বিজেপির আশা, অসম গণ পরিষদ এবং তামিল মানিলা কংগ্রেসের একজন সাংসদের সমর্থন তারা পাবে। একই ভাবে মনোনীত ছ’জন সদস্যও বিলের পক্ষে ভোট দেবেন বলে আশা গেরুয়া শিবিরের। সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পরে ওই বিলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুমোদন মিললে ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের নতুন নাম হবে ‘ইউনিফায়েড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট’।