ট্রাম্পের শুল্ক নীতির জেরে লালে লাল মার্কিন শেয়ার বাজার। কোভিড -১৯ মহামারীর পরে মার্কিন শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় ধস নামে ৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বড় শেয়ার বাজারগুলির থেকে বেশি। এদিকে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ হাজার ৬৭৯ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ পড়ে যায় বৃহস্পতিবার। নাসডাক কম্পোজিট ৬ শতাংশ নেমেছে। (আরও পড়ুন: লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাশ ওয়াকফ সংশোধনী বিল, ভোররা🦄তের ভোটভুটির ফলাফল কী?)
আরও পড়ুন: বিধানসভা ভোটের আগে জোর ধাক্কা, ওয়াকফ ইস্যুতে শাসক দ💃ল ছাড়লেন ২ নেতা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পালাটা শুল্ক চাপানোর ঘোষণায় মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবা দেখছে ওয়াল স্ট্রিট। এর জেরে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির হিড়িক দেখা দিয়েছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্টক থেকে শুরু করে অপরিশোধিত তেলের দরে ধাক্কা লেগেছে গতকাল। এদিকে যে সোনার ওপরে বিনিয়োগকারীরা এতদিন ভরসা করে ছিলেন, তাতেও বড়সড় পতন দেখা যায়। এই সবের মাঝেই ছোট মার্কিন সংস্থাগুলি সবচেয়ে খারাপ ভাবে ধাক্কা খেয়েছে। ছোট স্টকগুলির রাসেল ২০০০ সূচক ৬.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে গতকাল। (আরও পড়ুন: ইউনুসের উস্কানির আবহে উঠেছে বাংল😼াদেশ ভাগের দাবি, এরই মাঝে 'কাজ' শুরু ডোভালের?)
কেন মার্কিন শেয়ার বাজারে এই পতন?
উল্লেখ্য, ট্রাম্প মসনদে আসার পরপরই মার্কিন শেয়ার বাজারে উত্থান দেখা গিয়েছিল। আরও বেশি ব্যবসার আশায় ফুলে ফেঁপে উঠেছিল স্টক মার্কেট। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে 'আবার মহান' বানাতে গিয়ে শেয়ার বাজারের ১২টা বাজিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর শুল্ক নীতির জেরে এখ মার্কিন মুলুকে বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মন্দার শঙ্কাও জোরালো হয়েছে। সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির আতঙ্কও তাড়া করছে মার্কিনিদের। বিশ্লেষকরা বলছেন যে ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির নতুন লক্ষণ এবং ট্রাম্পের শুল্ক কৌশলকে ঘিরে অস্পষ্ট ধারণার কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নড়বড়ে গিয়েছে। নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে ছায়া ফেলেছে। গোল্ডম্যান শ্যাকস সম্প্রতি জানিয়েছে, মার্কিন মুলুকে এখন মন্দার সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ। আগে এই হার ছিল ২০ শতাংশ। এদিকে এর আগে মার্কিন জিডিপি বৃদ্ধির হার ২ শতাংশ হতে পারে বলে দাবি করেছিল তারা। এখন সেই হারের পূর্বাভাস নামিয়ে আনা হয়েছে ১.৫ শতাংশে। (আরও পড়ুন: গম্ভীর মুখে পাশাপাশি মোদী-ইউনুস, ব্যাঙ্কক♏ে দ্বিপা꧂ক্ষিক বৈঠক নিয়ে এল বড় আপডেট)
ভারতীয় শেয়ার বাজারের হাল
এদিকে মার্কিন বাজারে এই ধস নামলেও ভারতীয় শেয়ার বাজারে ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার মিশ্র প্রতিক্রিয়া পড💙়েছে। বৃহস্পতিবার বাজালে লেনদেন শুরু হওয়া꧃র পরপরই এক ধাক্কায় প্রায় ৮০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল সেনসেক্স। তবে সেখান থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ায় সূচক। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতির ক্লোজিং বেলের সময় আগের দিনের তুলনায় সেনসেক্স ৩২২ পয়েন্ট (০.৪২ শতাংশ) নীচে ছিল। এই আবহে সেনসেক্স গিয়ে ঠেকে ৭৬,২৯৫.৩৬ পয়েন্টে। সর্বকালের সর্বোচ্চ সীমা (৮৫,৯৭৮.২৫ পয়েন্ট) থেকে যা ৯৬৮২.৮৯ পয়েন্ট নীচে। তবে সার্বিক ভাবে ট্রাম্পের ধাক্কায় বৃহস্পতিবার সেই অর্থেও বেসামাল হয়নি ভারতীয় বাজার। এদিকে গতকাল নিফটি ৫০ সূচক ৮২.২৫ পয়েন্ট বা ০.৩৫ শতাংশ নীচে ছিল গত সেশনের তুলনায়। এই আবহে নিফটি গিয়ে ঠেকেছিল ২৩,২৫০.১০ পয়েন্টে।